আইফোনের কিস্তি নিয়ে পারিবারিক কলহ: পাহাড় থেকে লাফিয়ে বাবা-মাসহ তরুণের মৃত্যু

২৩ আগস্ট ২০২৬ - ১৬:০২
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
আইফোনের কিস্তি নিয়ে পারিবারিক কলহ: পাহাড় থেকে লাফিয়ে বাবা-মাসহ তরুণের মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত

মাত্র ১৮ বছর বয়সে শখ করে একটি আইফোন কিনেছিলেন কুনাল। কিন্তু ফোনের মাসিক কিস্তি বা ইএমআই পরিশোধ করার সামর্থ্য তার ছিল না। কিস্তির টাকার জোগান নিয়ে পরিবারের সঙ্গে শুরু হওয়া সেই দ্বন্দ্বই শেষ পর্যন্ত এক মর্মান্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। গত শুক্রবার ভারতের মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর এলাকার একটি পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়ে কুনাল, তার বাবা এবং মা— একই পরিবারের তিন সদস্যেরই প্রাণহানি ঘটেছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

​পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শখের আইফোন কেনার পর থেকেই কিস্তির অর্থ পরিশোধের বিষয় নিয়ে কুনালের সঙ্গে তার বাবার তীব্র বাকবিতণ্ডা লেগেই থাকত। সর্বশেষ কিস্তির টাকা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই পারিবারিক বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কুনাল গত শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় ওয়ালুজ এমআইডিসি থানা এলাকার তিসগাঁও অঞ্চলের একটি পাহাড়ে গিয়ে অবস্থান নেন।

​খবর পেয়ে কুনালের বাবা মুরলীধর চান্দগুড়ে ও মা সঙ্গীতা তাকে খুঁজতে পাহাড়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে তাকে পাহাড় থেকে নিচে নেমে আসার অনুরোধ জানানো হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত তিসগাঁও গ্রামের সাবেক সরপঞ্চ সঞ্জয় যাদব জানান, তাকে বুঝিয়ে শান্ত করার জন্য বহু আকুতি-মিনতি করা হয়েছিল। তার পড়ালেখা, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ এবং মায়ের কথা চিন্তা করতে বলা হয়। এমনকি তাকে নতুন একটি আইফোন ১৫ প্রো কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু কুনাল সাফ জানিয়ে দেন যে, মৃত্যুই তার একমাত্র পথ।

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কুনালকে লাফ না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে এক ব্যক্তি যখন বলেন, অন্তত মায়ের কথা ভেবে হলেও বেঁচে থাকো; তখন কুনাল উত্তর দেয়, না, তাকে মরতেই হবে। দীর্ঘ তিন ঘণ্টার এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির একপর্যায়ে দুপুর ১টার দিকে কুনালের বাবা পাহাড়ে উঠে ছেলেকে হাত ধরে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই মুহূর্তে ভারসাম্য হারিয়ে বাবা ও ছেলে দুজনেই গভীর খাদে পড়ে যান। চোখের সামনে স্বামী ও সন্তানকে খাদে পড়তে দেখে মুহূর্তের মধ্যে মা সঙ্গীতাও পাহাড় থেকে নিচে লাফিয়ে পড়েন।

​ঘটনাচক্রেই ঘটনাস্থলে তিনজনেরই মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এ ঘটনায় পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

​এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের পাশাপাশি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও কেন কোনো সুরক্ষা জাল বা সেফটি নেট প্রস্তুত করা সম্ভব হলো না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহོল প্রশ্ন উঠেছে। নিহত তরুণ কোনো মানসিক অবসাদ বা বিষণ্নতায় ভুগছিলেন কি না কিংবা এই পারিবারিক বিরোধের পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0