বঙ্গোপসাগরে ৭২ হাজার টন লোহা নিয়ে কার্গো জাহাজ ডুবি, বাংলাদেশি নাবিকসহ নিখোঁজ২২

২৩ আগস্ট ২০২৬ - ১৩:১০
প্রকাশিত: ২ মাস আগে
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
বঙ্গোপসাগরে ৭২ হাজার টন লোহা নিয়ে কার্গো জাহাজ ডুবি, বাংলাদেশি নাবিকসহ নিখোঁজ২২
ছবি সংগৃহীত

ভারতের ওডিশা উপকূল থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে উত্তাল বঙ্গোপসাগরে ২৪ জন নাবিকসহ 'এমভি ওশান উইনার' নামের একটি কার্গো জাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পানামার পতাকাবাহী এই জাহাজটিতে চীনের ২০ জন, মিয়ানমারের তিনজন এবং একজন বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট ২৪ জন নাবিক ক্রু হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শনিবার পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত লাইফ র‍্যাফটের সাহায্যে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে বর্তমানে যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী।

​বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২০ আগস্ট রাত ১০টা ৪২ মিনিটের দিকে ওডিশার পারাদ্বীপ বন্দর ত্যাগ করে কার্গোটি। সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করা এই জাহাজটিতে প্রায় ৭২ হাজার ১০০ টন লৌহ আকরিকের গুঁড়া বা আয়রন ওর ছিল।

​ভারতীয় কোস্টগার্ড জানিয়েছে, গত ২২ আগস্ট বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে শ্রী বিজয়া পুরমের মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এমআরসিসি) জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার প্রথম বার্তা পায়। জাহাজটির পরিচর্যাকারী প্রতিষ্ঠান 'ভিক্টরি স্টার গ্রুপ কোং লিমিটেড' থেকে জরুরি ভিত্তিতে এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কথা জানিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে উদ্ধার সহায়তা চাওয়া হয়।

​খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এমআরসিসি আশপাশের সমুদ্রসীমায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে জরুরি সতর্কতা জারি করে। পরবর্তীতে 'এমটি আইসোপোস' নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে নিখোঁজ 'এমভি ওশান উইনার' বা এর কোনো লাইফ র‍্যাফটের সন্ধানে পাঠানো হয়। ওই জাহাজটির প্রচেষ্টায় দুটি আলাদা লাইফ র‍্যাফট থেকে দুজন নাবিককে উদ্ধার করা হয়।

​দুজন নাবিককে উদ্ধারের পর নিখোঁজ অন্য ২২ নাবিককে উদ্ধারে বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান শুরু করে ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী। উদ্ধার অভিযানে কোস্টগার্ডের ‘বরদ’, ‘অনমোল’ এবং শ্রী বিজয়া পুরম থেকে পাঠানো ‘বিজিত’ নামের জাহাজগুলো অংশ নিয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনা এলাকার আশপাশে থাকা অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকেও নিখোঁজ নাবিকদের সন্ধানে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

​এদিকে, ঠিক কী কারণে জাহাজটি দুর্ঘটনার শিকার হলো বা ডুবে গেল, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে জাহাজটির কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল কি না কিংবা কোনো বিপৎসংকেত (SOS) পাঠানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে দুজনকে উদ্ধারের পর বাকি ২২ নাবিকের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানতে জোরেশোরে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0