সারাদেশের ১৪ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শুরু হচ্ছে কলেরার টিকাদান কর্মসূচি

২০ আগস্ট ২০২৬ - ১৪:১৪
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
সারাদেশের ১৪ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শুরু হচ্ছে কলেরার টিকাদান কর্মসূচি
ছবি সংগৃহীত

দেশজুড়ে কলেরার প্রকোপ রুখতে শুরু হতে যাচ্ছে ব্যাপকভিত্তিক প্রতিষেধক প্রয়োগ কর্মসূচি। ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’ উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

​বুধবার ডিএসসিসির জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের ১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলা ও থানায় ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২য় ডোজের টিকা দেওয়া হবে। সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষার জন্য ১৪ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ গ্রহণ করা আবশ্যক। এক বছর বা তার বেশি বয়সী সব নাগরিককে (গর্ভবতী নারী ছাড়া) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিনামূল্যে এই টিকা প্রদান করা হবে। এবারের ক্যাম্পেইনে সারাদেশে মোট ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

​রাজধানীর ডিএসসিসির আওতাধীন লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর—এই ৪টি থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে মুখে খাওয়ার এ টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চিহ্নিত কিছু এলাকায় এ টিকাদান কার্যক্রম চলবে।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একসময় কলেরার কারণে পুরো গ্রাম জনশূন্য হয়ে পড়ত। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এ সময় তিনি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির মতো এ উদ্যোগ সফল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

​ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জানান, পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে সফলভাবে ইপিআই কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে চিহ্নিত ১৭টি ওয়ার্ডেও এ কর্মসূচি সফল করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

​বিশেষজ্ঞরা জানান, ভাইব্রিও কলেরা জীবাণুর বিরুদ্ধে মুখে খাওয়ার এই ওষুধ ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা প্রদান করে এবং সংক্রমণের তীব্রতা কমায়। তবে প্রতিষেধক গ্রহণের পাশাপাশি নিরাপদ পানি পান ও সার্বিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

​অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, আইসিডিডিআর,বি-র সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. ফিরদৌসী কাদরী এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0