চীনে চার বছরে সর্বোচ্চ উৎপাদন খরচ, বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ
চীনে গত চার বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে কারখানায় পণ্য উৎপাদন খরচ রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে চীনের উৎপাদক মূল্যসূচক (PPI) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশে, যা আগের মাস আগস্টে ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। রয়টার্সের অর্থনীতিবিদদের ৪ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে যাওয়া এই হার ২০২২ সালের জুনের পর সর্বোচ্চ। মূলত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং সাপ্লাই চেইনে বিঘ্ন ঘটায় তেলসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বেড়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে কারখানার উৎপাদন খরচে।
এদিকে উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও দেশের অভ্যন্তরে ভোক্তাদের চাহিদা কম থাকায় খুচরা বাজারে পণ্যের দাম সেই তুলনায় বাড়ছে না। সেপ্টেম্বরে চীনের ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মাত্র শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে, যা অর্থনীতিবিদদের অনুমানের চেয়ে কম। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিবারের খরচ করার মানসিকতা ও বেসরকারি খাতের আস্থার সংকট অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়াতে বাধা সৃষ্টি করছে। এর ফলে চীনের অর্থনীতি মূলত অভ্যন্তরীণ ব্যয়ের পরিবর্তে রপ্তানিমুখী খাতের ওপর অধিক মাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
অর্থনীতির এই ভারসাম্যহীনতা দূর করতে ও প্রবৃদ্ধি বাড়াতে ইতিমধ্যে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বেইজিং। অবকাঠামো উন্নয়ন এবং স্থানীয় সরকারগুলোর সহায়তার জন্য অতিরিক্ত ৫৫০ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ৮২ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার) বরাদ্দের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গৃহঋণের কিস্তিতে ভর্তুকি দেওয়ার মতো প্রণোদনাও চালু করা হয়েছে। তবে খাদ্য ও জ্বালানির দামের ওঠানামা বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল মূল্যস্ফীতি সেপ্টেম্বরে ১ শতাংশে স্থিতিশীল থাকায় খুচরা বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ এখনো সীমিত পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











