বিশ্ববাজারে ফের কমলো জ্বালানি তেলের দাম: নিয়ন্ত্রণে জি-৭ এর বড় পদক্ষেপ

০৫ অক্টোবর ২০২৬ - ১৪:৪১
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
বিশ্ববাজারে ফের কমলো জ্বালানি তেলের দাম: নিয়ন্ত্রণে জি-৭ এর বড় পদক্ষেপ
ছবি: সংগৃহীত

জি-৭ জোটের জরুরি সিদ্ধান্ত ও সরবরাহ বৃদ্ধি

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে দরপতন ঘটেছে। সোমবার (০৫ অক্টোবর) মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের রফতানি বৃদ্ধি এবং শিল্পোন্নত জি-৭ দেশগুলোর আপৎকালীন মজুত তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্তের পর এই মূল্যহ্রাস দেখা যায়। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বাজারে এ দরপতন ঘটে। ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

​ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই তেলের হালনাগাদ দর

বাজারের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৬টা ৩৪ মিনিটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ সেন্ট বা ০.৭১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১০১.৫৯ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১.০৫ ডলার বা ১.২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০.০৫ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছিল। সার্বিকভাবে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দর ১.৬ শতাংশ কমেছে।

​মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর শুক্রবার জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো তাদের জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়তে এবং জ্বালানি রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার বিষয়ে একমত হয়।

​হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি

জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার এই ঘোষণার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বিশ্ববাজারমুখী সরবরাহ আরও গতি পেয়েছে। সোমবার সংগৃহীত জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে সামরিক ঝুঁকি অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের চার দিন মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রফতানি সংঘাত শুরুর পূর্বের মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। তবে অপরপক্ষে সোমবার আইসিই গ্যাসঅয়েল ফিউচারসের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১ হাজার ৩ ৯০.২৫ ডলারে পৌঁছায়।

​কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, কৌশলগত মজুত তেলের ব্যবহারের জি-৭ সিদ্ধান্ত সরবরাহ ঘাটতির তাৎক্ষণিক উদ্বেগ অনেকাংশে কমিয়েছে। পাশাপাশি এতে করে সৌদি আরবের তেল রফতানি সংঘাত-পূর্ববর্তী স্তরের দিকে ফিরে যাচ্ছে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, যদিও এই সরবরাহ তুলনামূলক ব্যয়বহুল ও ধীরগতির পথে সচল রাখা হয়েছে।

​এদিকে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের ৫০টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে গত ১২ ঘণ্টায় সৌদি আরবের রিয়াদ ও খুরাইস এলাকায় অবস্থিত আরামকোর স্থাপনায় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে হুথি বিদ্রোহীরা। তবে হামলার এই দাবির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সত্যতা বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0