জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা ব্যর্থতা: অজুহাতের ‘রিয়ালিটি চেক’ নাকি ব্যাটিংয়ের চরম বিপর্যয়?

১৯ অক্টোবর ২০২৬ - ১০:২৪
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টানা ব্যর্থতা: অজুহাতের ‘রিয়ালিটি চেক’ নাকি ব্যাটিংয়ের চরম বিপর্যয়?
ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেট মাঠে বাংলাদেশের পরাজয়ের পর নিয়মিত ব্যবহৃত কিছু নির্দিষ্ট বাক্যাংশের সাথে ক্রীড়ামোদিরা বেশ পরিচিত। একের পর এক ম্যাচ কিংবা সিরিজ হারের পর দলের প্রতিনিধি বা ক্রিকেটারদের মুখে প্রায়ই ‘রিয়ালিটি চেক’ শব্দটি শুনতে পাওয়া যায়। সম্প্রতি আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পরও একই মন্তব্য দেখা গেল পেসার তাসকিন আহমেদের কণ্ঠে। তবে বারবার একই ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি ঘটায় এখন প্রশ্ন উঠছে—একটি আন্তর্জাতিক দলের আসলে কতবার এই তথাকথিত ‘রিয়ালিটি চেক’-এর মধ্য দিয়ে যেতে হয়?

​সাধারণভাবে ক্রীড়াঙ্গনে ‘রিয়ালিটি চেক’ বলতে বোঝায় দলের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত হওয়া এবং নিজেদের কোথায় ভুল রয়েছে তা স্পষ্টভাবে সামনে আসা। কিন্তু বাংলাদেশ দলের ক্ষেত্রে এই পরিচিত ভুলগুলো বারবার সামনে এলেও তা শুধরে নেওয়ার কোনো কার্যকর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের মাধ্যমে আরও একবার জাতীয় দলের ব্যাটিং লাইনাপের কঙ্কালসার ও ভঙ্গুর রূপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। লক্ষ্য তাড়া করা দূরে থাক, নির্ধারিত ৫০ ওভার ক্রিজে টিকে থাকাই যেন এখন দলের মূল চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

​ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান ও তথ্য বলছে, ঠিক এক বছর আগে এই একই ভেন্যু—আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে—আফগানিস্তানের কাছে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সিরিজের কোনো ম্যাচেই পুরো ৫০ ওভার ব্যাটিং সম্পন্ন করতে পারেননি ব্যাটাররা। একই মাঠে সম্প্রতি জিম্বাবুয়ের দেয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ৩৩.৪ ওভারে গুটিয়ে যায় পুরো দল। গত ২০২৩ বিশ্বকাপের পর থেকে বিদেশের মাটিতে খেলা ২১টি ওয়ানডে ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে মাত্র ৪টিতে, আর বাকি ১৭টি ম্যাচেই হার মেনে নিতে হয়েছে।

​এর আগেও গত জুলাই মাসে জিম্বাবুয়ের কাছে সিরিজ হারের পর ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের মুখে এই একই মন্তব্যের পুনরাবৃত্তি দেখা গিয়েছিল। ফলে একই ভুল বারবার করে তা আড়াল করার চেষ্টা নিয়ে নানা মহল থেকে অসন্তোষ প্রকাশ পাচ্ছে।

​ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তাসকিন আহমেদ বলেন, দলগত পারফরম্যান্সে উন্নতি না হলে দু-একটি ব্যক্তিগত অর্জন জয়ের জন্য যথেষ্ট নয়। চাপ সামলে পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলতে না পারাই দলের প্রধান ঘাটতি বলে স্বীকার করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে ব্যাটারদের স্কিল বা সামর্থ্য নিয়ে আস্থা প্রকাশ করেন এই পেসার।

​বাস্তবতা হলো, ওপেনিংয়ে ভালো শুরুর পরও দ্রুত কয়েকটি উইকেটের পতন হলে দলের মধ্যম সারির ব্যাটাররা দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। বিপরীতে জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা চাপের মুখে ঘুরে দাঁড়িয়ে যেভাবে ১৫০ রানের জুটি গড়েছিলেন, সেই ধরনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের অভাবই বারবার বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিচ্ছে। কৌশলগত সিদ্ধান্ত কিংবা অতি-আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে গিয়ে নিয়মিত উইকেট উপহার দেওয়ার এই ধারা আর কতদিন চলবে, তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0