লাল-সবুজ জার্সিতে শুকি ইতোফুসার অভিষেক: আরও অবদানের অঙ্গীকার
ছোটবেলা থেকেই লাল-সবুজ জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠে নামার প্রবল স্বপ্ন ছিল শুকি ইতোফুসার। ফিফা আসিয়ান কাপে মালয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের মধ্য দিয়ে অবশেষে বাস্তবায়িত হয়েছে তার সেই দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। বাংলাদেশ জাতীয় দলে পা রেখে এই জাপানি বংশোদ্ভূত ২২ বছর বয়সী উইঙ্গার দারুণ আনন্দিত হলেও, নিজের প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সে শতভাগ তৃপ্ত হতে পারেননি। তাই তো কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে দ্রুত ফিটনেস বাড়িয়ে আগামী ম্যাচগুলোতে গোল ও সহায়তার (অ্যাসিস্ট) মাধ্যমে দলের জয়ে বড় অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
অভিষেকের অভিজ্ঞতা ও লক্ষ্য
মালয়েশিয়ার বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে মাঠের লড়াইয়ে নামেন শুকি। তিনি মাঠে নামার আগেই বাংলাদেশ দল ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল এবং ম্যাচের ৫২ মিনিটে আরও একটি গোল হজম করে শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়। তবে দলের এমন কঠিন পরিস্থিতিতে অভিষেক ঘটলেও লাল-সবুজ জার্সিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখার সুবর্ণ সুযোগটিকেই প্রধান অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।
নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শুকি বলেন, “শৈশব থেকেই জাতীয় দলের জার্সি পরা এবং দেশের হয়ে খেলা আমার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। তবে প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে বলা যায়, আমার এখনও কয়েকটি জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। নিজের ফিটনেস ও কন্ডিশন আরও সমৃদ্ধ করতে কঠোর পরিশ্রম করে যাব, যেন গোল ও অ্যাসিস্টের মাধ্যমে দলের জন্য বেশি অবদান রাখতে পারি।”
প্রথম ম্যাচেই একাদশে বা বদলি হিসেবে সুযোগ পাবেন—এমনটি আগে থেকে ভাবেননি শুকি। তবে দেশের হয়ে যেকোনো সময় মাঠে নামার জন্য তিনি শতভাগ প্রস্তুত ছিলেন বলে জানান।
ভাষাগত যোগাযোগ ও দলের পরিবেশ
জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার শুরুতে সতীর্থদের সঙ্গে ভাব বিনিময়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল এই তরুণ ফুটবলারকে। সতীর্থরা জাপানি ভাষা না জানলেও ইংরেজি এবং সাধারণ ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে ধীরে ধীরে যোগাযোগের সুন্দর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া দলের জ্যেষ্ঠ ও সহ খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা পাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পারিবারিক যোগসূত্র ও ব্যাকগ্রাউন্ড
দীর্ঘ সময় স্বজনদের থেকে দূরে অবস্থান করা প্রসঙ্গে শুকি জানান, এটিকে তিনি কোনো বড় সমস্যা মনে করেন না। কারণ তার স্বপ্নের সাথে জড়িয়ে আছে পরিবারের আকাঙ্ক্ষাও। তার ভাষায়, “পরিবার ছেড়ে দূরে থেকে যদি সফলতা অর্জন করতে পারি, তবে সেটি আমার পরিবারসহ অসংখ্য মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে।”
জাপানের সাইতামায় জন্ম নেওয়া শুকির বাবা আতাউর রহমান একজন বাংলাদেশি এবং মা জাপানি নাগরিক। পিতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা থেকেই তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেন। ঘরোয়া ফুটবল আসরে ফর্টিস এফসির হয়ে খেলার পর জাতীয় দলের অনুশীলনে কোচ থমাস ডুলির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এই উইঙ্গার। পারিবারিক পর্যায়ে তার বাবা কেবল বাংলায় কথা বলেন, আর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তিনি সাধারণত জাপানি ভাষাতেই যোগাযোগ রক্ষা করে থাকেন।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











