পিটিআইয়ের কর্মসূচি ঘিরে পাকিস্তানে কড়া নিরাপত্তা: রাওয়ালপিন্ডিতে রেঞ্জার্স মোতায়েন ও ইন্টারনেট বন্ধের প্রস্তাব
পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) পরিকল্পিত রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদ ও তার আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে দেশটির সরকার। অস্থিতিশীলতা এড়াতে রাওয়ালপিন্ডিসহ চারটি সংবেদনশীল জেলায় অতিরিক্ত আধাসামরিক বাহিনী ‘রেঞ্জার্স’ মোতায়েনের প্রশাসনিক অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে ওই এলাকাগুলোতে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
পিটিআইয়ের প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ
সরকারের এই কঠোর পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পিটিআই নেতৃত্ব। দলের চেয়ারম্যান গওহর আলী খান এক বক্তব্যে বলেন, রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহার করে জনগণের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকারকে খর্ব করা হচ্ছে। তবে সরকারের কড়াকড়ি সত্ত্বেও ইসলামাবাদে তাদের প্রবেশ ও নির্ধারিত কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
ইমরান খানের কারাবাস ও স্বজনদের উদ্বেগ
দুর্নীতির মামলায় বর্তমানে ১৪ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন ইমরান খান। তার পরিবার ও আইনি দলের অভিযোগ, কারাকক্ষে তাকে চরম প্রতিকূল ও অমানবিক পরিবেশে রাখা হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২৩ ঘণ্টাই তাকে প্রাকৃতিক আলোবিহীন একটি ক্ষুদ্র কক্ষে থাকতে হচ্ছে এবং অন্য বন্দীদের সঙ্গে যোগাযোগের কোনো সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। অবশ্য পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কনটেইনার ব্যবহারের দীর্ঘ পটভূমি রয়েছে ইমরানের। ২০২২ সালের একটি রাজনৈতিক মিছিলে এমনই এক কনটেইনারের ওপর দাঁড়িয়ে ভাষণ দেওয়ার সময় আততায়ীর গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
আইএমএফ প্রতিনিধিদলের চলমান সফর
এদিকে, পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে করাচিতে স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠক করছে। নির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মসূচির পর সোমবার তাদের ইসলামাবাদ যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউজ’-এর বরাতে জানা গেছে, রাজধানীর সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার ওপরই প্রতিনিধিদলটির পরবর্তী সফর সূচি নির্ভর করবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











