জাতিসংঘের অধিবেশনে কেন অংশ নেননি মোদি-পুতিনসহ শীর্ষ বিশ্বনেতারা?
নিউইয়র্কে আয়োজিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রপ্রধানরা সমবেত হলেও বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প, রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ও ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মতো প্রতিনিধিরা এই মহাসমাবেশে অংশ নিলেও বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক, অভ্যন্তরীণ ও স্বাস্থ্যগত কারণে বহুপক্ষীয় এই সমাবেশ এড়িয়ে গেছেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপ্রধান।
জার্মানি: ফ্রিডরিখ মার্ৎস
জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা ফ্রিডরিখ মার্ৎস দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অধিবেশনে যোগ দিতে পারেননি। সম্প্রতি জার্মানির তিনটি রাজ্যে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবং বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ সামলাতে তিনি নিজ দেশে অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নেন।
ইতালি: জর্জিয়া মেলোনি
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিও জরুরি অভ্যন্তরীণ কাজের স্বার্থে নিউইয়র্ক সফর থেকে বিরত থেকেছেন। জুলাই মাসের শুরুতে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফিরে তিনি জানান, জমে থাকা কিছু রাষ্ট্রীয় ও অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করছেন। তাঁর বদলে ইতালির পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকা: সিরিল রামাফোসা
ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে চিকিৎসকের পরামর্শে পুরোপুরি বিশ্রামে থাকার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবারের অধিবেশনে সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি। তাঁর পরিবর্তে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোনাল্ড লামোলা।
মিশর: আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি
মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি ২০২০ সালের পর থেকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সশরীরে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন। এবারও তাঁর অনুপস্থিতির বিষয়ে প্রেসিডেন্সি থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। দেশটির পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা মাদবৌলি।
নাইজেরিয়া: বোলা টিনুভু
আগস্টের শেষভাগ থেকে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে ব্যক্তিগত ছুটিতে থাকার কারণে আফ্রিকার আরেক প্রভাবশালী দেশ নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুভু অধিবেশনটি এড়িয়ে গেছেন। সম্মেলনে নাইজেরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করছেন উপ-রাষ্ট্রপতি কাশিম শেটিমা।
ভারত: নরেন্দ্র মোদি
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে নিয়মিত উপস্থিত হন না। সবশেষ ২০২১ সালে তিনি এই মঞ্চে বক্তব্য রেখেছিলেন। প্রাথমিক তালিকায় তাঁর নাম থাকলেও শেষ মুহূর্তে সফর পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়। বরাবরের মতো এবারও ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর।
চীন: শি জিনপিং
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে অবস্থান করা সত্ত্বেও নিউইয়র্কের বহুপক্ষীয় বিশ্বমঞ্চে যোগ দেননি। তিনি নিউইয়র্ক থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে ওয়াশিংটনে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নিয়ে হোয়াইট হাউসের গালা ডিনার ও সামরিক কুচকাওয়াজে ব্যস্ত থাকেন। এর মাধ্যমে বিশ্বসংস্থার বহুপক্ষীয় কূটনীতির চেয়ে দ্বিপক্ষীয় ভিত্তির পরাশক্তি কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেন তিনি।
রাশিয়া: ভ্লাদিমির পুতিন
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রতিবারের মতোই জাতিসংঘের এই আইকনিক মঞ্চ এড়ানোর ধারা বজায় রেখেছেন। নিজের অনুপস্থিতির নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ না করলেও একটি বিশেষ ডিক্রি জারির মাধ্যমে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভকে অধিবেশনের দায়িত্ব অর্পণ করেন।
ফিলিস্তিন: মাহমুদ আব্বাস
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নিয়মিত উপস্থিত থাকলেও মার্কিন প্রশাসনের কূটনৈতিক ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে সশরীরে যেতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে কূটনৈতিক ভিসা না পাওয়ায় মাহমুদ আব্বাস ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে তাঁর ভাষণ প্রদান করেন।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











