হরমুজ প্রণালি খোলা ও যুদ্ধবিরতিতে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৫:০২
4 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
হরমুজ প্রণালি খোলা ও যুদ্ধবিরতিতে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষায় তেহরান

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকচ করে দিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ওই সংবাদ প্রকাশের পর আমেরিকান প্রশাসনের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছে তেহরান। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এই তথ্যের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো সূত্রে নিশ্চিত করতে পারেনি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

​জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে নিজেদের কূটনৈতিক প্রস্তাবটি পাঠায় ইরান। তেহরানের দাবি, তাদের এই শান্তি প্রস্তাবে মার্কিন প্রশাসন সম্মত হলে সাত দিনের মধ্যে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সকল ফ্রন্টে সামরিক সংঘাত বন্ধের প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব।

​জাতিসংঘে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, আমেরিকা যদি চুক্তিতে পৌঁছাতে আন্তরিকতা দেখায়, তবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে তাদের সমস্ত প্রস্তুতি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র রাজি থাকলে পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের সম্মতিতে পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিস্তৃত বিষয়ের ওপরও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা শুরু হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

​পারমাণবিক অবস্থান ও তেহরানের শর্তাবলি

সম্ভাব্য আলোচনার টেবিলে পারমাণবিক বিষয় উঠে এলেও নিজেদের মৌলিক অবস্থান থেকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রস্তাব মেনে নিলেও পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করবে না তাদের দেশ। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার এবং দেশের বাইরে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাঠানোর মতো বিষয়ে তেহরান কোনো আপস করবে না বলেও ওই কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন।

​প্রস্তাবিত শর্তের অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্মুক্ত করার বিপরীতে ওয়াশিংটনের কাছে বেশ কিছু দাবি পেশ করেছে ইরান। এর মধ্যে রয়েছে—ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে আমেরিকান নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা, আটকে রাখা তহবিল মুক্ত করা এবং তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা। একই সঙ্গে লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের অপরাপর যুদ্ধক্ষেত্রগুলোতে অবিলম্বে সামরিক সংঘাত বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।

​এর আগে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরিচালিত এই কূটনৈতিক আলোচনাকে ‘ইতিবাচক ও গঠনমূলক’ বলে অভিহিত করেছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা। তবে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ইরান তাঁর দাবিগুলো মেনে নেবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। তিনি তাঁর সহযোগীদের কাছে ইরানে পুনরায় বিমান হামলা জোরদার করার সম্ভাবনার কথা ব্যক্ত করেছেন।

​প্রায় সাত মাস ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত থামানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় হরমুজ প্রণালি চালুর বিষয়টি বর্তমানে মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

​আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সৌদি আরবে সামরিক পরিস্থিতি

হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল বজায় রাখা নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গেও কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়িয়েছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানকে ওমানের সঙ্গে যৌথভাবে হওয়া নৌ নিরাপত্তা সমঝোতার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য অবহিত করেছেন।

​এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান হামলাকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব তাদের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট শনিবার জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদের দিকে আসা দুটি হুথি ড্রোন এবং খামিস মুশাইত এলাকা লক্ষ্য করে ছোঁড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

​মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতির আলোকেই সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে থাকা তুরস্ক ও পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা শুক্রবার রিয়াদে এক বৈঠকে মিলিত হন। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, বৈঠকে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক সমন্বয় ও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।

​ইয়েমেনে তীব্র হতে থাকা সংঘাতের কারণে মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ শুক্রবার তাদের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রভাবে ইয়েমেনের শিশুদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে তীব্র অপুষ্টির হার বাড়ছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0