সৌদি-হুতি সংঘাত: রিয়াদে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনা বৈঠক

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ২২:১৩
4 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
সৌদি-হুতি সংঘাত: রিয়াদে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সেনা বৈঠক
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সীমান্ত অতিক্রম করে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে বিস্তৃত হওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সামরিক সহায়তার অংশ হিসেবে রিয়াদে যৌথ জরুরি বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন পাকিস্তান ও তুরস্কের সেনাপ্রধানরা। সেখানে গত মাসে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ বাস্তবায়ন ও সামরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

​তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে তাদের চিফ অব জেনারেল স্টাফ সেলচুক বায়রাকতারগ্লুর সৌদি সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে যে পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনিরও এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিতে রিয়াদে যাচ্ছেন। চুক্তি অনুযায়ী, জোটভুক্ত যেকোনো একটি দেশ সামরিক আক্রমণের শিকার হলে তা অন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

​কূটনৈতিক তৎপরতা ও প্রতিক্রিয়া

সামরিক প্রধানদের বৈঠকের পূর্বাভাস মেলে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার পর। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।

​বৈঠক শেষে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো এবং পবিত্র মক্কা নগরী লক্ষ্য করে হুতিদের হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে নিজেদের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে বলে রিয়াদ উল্লেখ করেছে।

​অন্যদিকে, পাকিস্তান ও তুরস্ক তুলনামূলক কূটনৈতিক সতর্কতা বজায় রেখে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার উল্লেখ করেন যে, মক্কা চুক্তির প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি কৌশলগত নিরাপত্তা ইস্যুতে কথা হয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও চুক্তির সামরিক প্রয়োজনীয়তা ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

​হুতিদের হুমকি ও বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ

রিয়াদ ও আঙ্কারা-ইসলামাবাদের এই তৎপরতার জবাবে শক্ত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি এক সাক্ষাৎকারে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, পাকিস্তান ও তুরস্ক এই যুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ত হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে।

​নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জের কারণে সরাসরি সৌদি আরবে সেনা পাঠানো পাকিস্তান ও তুরস্কের জন্য কিছুটা জটিল হতে পারে। ইসলামাবাদের ইনস্টিটিউট অব পলিসি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ সহযোগী তুঘরাল ইয়ামিন জানান, পাকিস্তান বর্তমানে সীমান্ত উত্তেজনা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার চাপে রয়েছে। একই সঙ্গে ন্যাটোর সদস্য হিসেবে তুরস্কের কৌশলগত দায়বদ্ধতার বিষয়টিও অনুপেক্ষেণীয়।

​সৌদির অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক সমর্থন

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি আরবের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব ঐক্যের ডাক দিয়েছে। সৌদির গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ আল-ফাওজান সীমান্ত রক্ষা করাকে সেনাদের ঈমানী ও জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদও মন্ত্রিসভার বৈঠকে পবিত্র স্থানের নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

​সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক সমর্থনও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে রিয়াদের বিমান বাহিনীকে জ্বালানি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে এবং ফ্রান্স লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ ইয়ানবু তেল টার্মিনালের নিরাপত্তায় সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উভয় পক্ষই দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0