জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: নিরাপদ বিশ্ব গঠনে ৫ দাবি

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ০৭:২৬
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: নিরাপদ বিশ্ব গঠনে ৫ দাবি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি:সংগৃহীত

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও সুরক্ষিত ও টেকসই বিশ্ব বিনির্মাণে বৈশ্বিক নেতাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ঝুঁকি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন ও উন্নত প্রযুক্তি নিশ্চিত করার জোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

জলবায়ু সংকট ও বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতি

স্থানীয় সময় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতিসংঘ সদর দফতরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সভার আয়োজন করেন।

​বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের সারিতে রয়েছে বাংলাদেশ। তিনি সতর্ক করে বলেন, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ১২ থেকে ১৮ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষ জীবিকা হারানোর পাশাপাশি জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে।

​জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতির কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ১ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজন খাতে ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া এ বিপুল ক্ষতির ঝুঁকি এড়ানো কঠিন।

পরিবেশ রক্ষায় সরকারের নানা উদ্যোগ

পরিবেশ সুরক্ষায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নদীর নাব্য বৃদ্ধি ও পানি সংরক্ষণে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনঃখননের কাজ চলছে। এ ছাড়া পদ্মা ও তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের কৌশলগত কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

​তিনি আরও জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য ও সার্কুলার ইকোনমি প্রসারের মাধ্যমে সবুজ অর্থনীতির বিকাশে কাজ করছে সরকার।

বৈশ্বিক পদক্ষেপের ৫ দফা দাবি

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বিশ্বের সামনে পাঁচটি জরুরি দাবি উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী:

১. প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।

২. জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পর্যাপ্ত ও সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করা।

৩. জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তির সহজলভ্যতা ও ন্যায়সংগত রূপান্তর নিশ্চিত করা।

৪. প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটানো।

৫. 'ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিল' (Loss and Damage Fund) সম্পূর্ণ কার্যকর করা এবং এতে নিয়মিত অর্থ সংস্থান বজায় রাখা।

​উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য প্রদান করবেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0