এল নিনোর দাপটে সাড়ে চার লাখ মৃত্যুর শঙ্কা: ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের গবেষণা
অস্বাভাবিক ও শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে অতিরিক্ত তাপপ্রবাহের কারণে আগামী ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে সাড়ে চার লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপ্রতিষ্ঠান 'ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব'-এর প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কাজনক পূর্বাভাসের কথা জানানো হয়েছে।
২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়কালকে বিবেচনা করে প্রস্তুত করা এ প্রতিবেদনে বলা হয়, এল নিনোর তীব্রতার কারণে বৈশ্বিক ভূপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা প্রায় ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (২.১ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে সাধারণ বছরের তুলনায় মাত্রাতিরিক্ত গরম দিনের সংখ্যা প্রায় ৪৪ শতাংশ বেড়ে যাবে।
উন্নয়নশীল দেশ ও সাহেল অঞ্চলে সর্বোচ্চ ঝুঁকি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই মারাত্মক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো এবং আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে। সাহেল অঞ্চলজুড়ে অতিরিক্ত প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হতে পারে। একক দেশ হিসেবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে নাইজেরিয়া; যেখানে ৩১ হাজার ৪০০ জনের মৃত্যুর শঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ হাজার ৩০০ এবং সুদানে ১৭ হাজার ৬০০ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া মিলিয়ে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ জন, ভারতে ১৫ হাজার ৮০০ জন এবং ব্রাজিলে ১৩ হাজার ৩০০ অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য ও করণীয়
ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও গবেষণার অন্যতম লেখক মাইকেল গ্রিনস্টোন জানান, যেসব এলাকায় তাপমাত্রা এমনিতেই বেশি এবং মানুষের আয় তুলনামূলক কম, সেসব অঞ্চলেই তাপপ্রবাহের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, “ইতোমধ্যে উষ্ণ এমন কোনো অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও দুই ডিগ্রি বাড়লে তা জীবনের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়।” বিপরীতভাবে ধনী দেশগুলোতে এয়ার কন্ডিশনার, নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবার সুবিধার কারণে ঝুঁকি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
এদিকে ভারতে 'ন্যাচারাল রিসোর্সেস ডিফেন্স কাউন্সিল'-এর তাপপ্রবাহ বিশেষজ্ঞ অভিইয়ান্ত তিওয়ারি পূর্বপ্রস্তুতির ওপর জোর দিয়ে জানান, কেবল তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তা জারি করাই যথেষ্ট নয়, বরং মানুষকে কার্যকরভাবে রক্ষা করা এবং এড়ানো সম্ভব এমন মৃত্যু প্রতিরোধ করাই আসল মূল্যায়নের বিষয়।
উল্লেখ্য, চলতি বছর জুনে শুরু হওয়া এই এল নিনো জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থার মতে, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এর প্রভাব অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা শতভাগ এবং এই বিপদ ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











