রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ২৩:৫০
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি:সংগৃহীত

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউ ইয়র্কে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ সাইড ইভেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও আঞ্চলিক সুরক্ষার স্বার্থে বিশ্ব সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা রাখার জোর আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ৫ দফা প্রস্তাব:

১. রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে একটি গ্রহণযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করা।

২. রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি মিয়ানমারের সাধারণ জনগণের ওপর সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করা এবং তাদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

৩. রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত ও ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা বজায় রাখা।

৪. আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রয়োজনীয় সমর্থন দিয়ে অপরাধীদের জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

৫. মানবপাচার, মাদক ব্যবসা, ডিজিটাল জালিয়াতি ও অবৈধ অস্ত্রের মতো আন্তসীমান্ত অপরাধ দমনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করা।

সংকটের বিস্তার ও বাংলাদেশের ওপর চাপ

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গারা বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার হয়ে আসছে। ২০১৭ সালে নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতার পর এই সংকট অত্যন্ত গুরুতর আকার ধারণ করে। বর্তমানে বাংলাদেশ ১২ লাখের বেশি পোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। সীমান্ত পেরিয়ে নতুন করে আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতার পাশাপাশি রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে প্রতি বছর হাজার হাজার শিশুর জন্ম হচ্ছে।

​তিনি আরও জানান, মানবিক কারণে সীমান্ত উন্মুক্ত রেখে বাংলাদেশ তাদের খাদ্য, আবাসন ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করছে। একইসঙ্গে মিয়ানমারে ফিরে গিয়ে মানিয়ে নেওয়ার সুবিধার জন্য প্রায় ৬ হাজার শিক্ষাকেন্দ্রে তাদের নিজস্ব পাঠ্যক্রম অনুযায়ী শিক্ষা এবং যুবকদের কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

​দীর্ঘায়িত এই রোহিঙ্গা সংকটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ, পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এটি দ্রুত সমাধান না হলে সমগ্র অঞ্চলের জন্যই এক বিশাল নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

হ্রাস পাচ্ছে আন্তর্জাতিক সহায়তা

আন্তর্জাতিক তহবিল কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, ২০২৫ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনায় যেখানে ৯৩৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অনুদানের আবেদন ছিল, ২০২৬ সালে তা কমিয়ে প্রায় ৭১০ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। প্রয়োজন বাড়তে থাকলেও সহায়তা পাওয়ার হার কমে যাওয়া কোনোভাবেই ইতিবাচক নয়।

​প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎপত্তিস্থল মিয়ানমার এবং এর স্থায়ী সমাধানও তাদের হাতেই রয়েছে। বর্তমানে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মি—উভয় পক্ষের দ্বারাই রোহিঙ্গারা জোরপূর্বক নিয়োগ, নির্বিচারে আটক ও শ্রম শোষণের মতো মারাত্মক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে।

​নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ এখনো তৈরি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কেবল সহমর্মিতা প্রকাশে সীমাবদ্ধ না থেকে এখন সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করে বাস্তবমুখী পদক্ষেপে নামতে হবে। প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0