আমেরিকায় প্রথমবারের মতো প্রাপ্তবয়স্ক টি-রেক্সের চলাচলের পথের সন্ধান
বিজ্ঞানীরা প্রথমবারের মতো একটি প্রাপ্তবয়স্ক ‘টির্যানোসরাস রেক্স’ বা টি-রেক্সের হেঁটে চলার ধারাবাহিক পায়ের ছাপের পথ (ট্র্যাকওয়ে) আবিষ্কার করেছেন। পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম হিংস্র ও বিশালকায় এই ডাইনোসর কীভাবে মাটিতে চলাচল করত, তা নিয়ে এতদিন সুনির্দিষ্ট ধারণার অভাব ছিল। নতুন এই আবিষ্কার প্রাক-ঐতিহাসিক যুগের শীর্ষ শিকারি ডাইনোসরের গতিবিধি বুঝতে নতুন দুয়ার খুলে দিল।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ডাকোটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং মন্টানা সীমান্তের নিকটবর্তী 'হেল ক্রিক ফর্মেশন' নামক এলাকা থেকে এই পায়ের ছাপগুলো পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে কলোরাডোর নর্থগ্লেন হাইস্কুলের বিজ্ঞানের শিক্ষক এবং ডেনভার মিউজিয়াম অব নেচার অ্যান্ড সায়েন্সের গবেষণা সহযোগী কেন্ট হাবস প্রথম দুটি পদচিহ্ন দেখতে পান। পরবর্তীতে একই জাদুঘরের কিউরেটর টাইলার লাইসনের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালিয়ে আরও দুটি ছাপ উন্মোচন করেন তারা।
জীবাশ্মের আকার ও বৈশিষ্ট্য
সর্বমোট ২৩ ফুট এলাকাজুড়ে ৪টি ধারাবাহিক পায়ের ছাপ বিস্তৃত রয়েছে। প্রায় ৬ কোটি ৬৫ লাখ বছরের পুরোনো এসব ছাপের প্রতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ ফুট এবং প্রস্থ ২.৬ ফুট। প্রতিটি পায়ের ছাপে তিনটি করে আঙুল তিন দিকে ছড়ানো অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে এই ঐতিহাসিক পথ শনাক্ত করার অভিজ্ঞতাকে অবিশ্বাস্য বলে উল্লেখ করেছেন শিক্ষক কেন্ট হাবস।
চলাচলের গতিপথ
গবেষণায় দেখা গেছে, ওই ভেজা ও নরম মাটিতে হাঁটার সময় ডাইনোসরটির আনুমানিক গতি ছিল ঘণ্টায় ৫.৬ থেকে ৭ কিলোমিটার। তবে এটি তার সর্বোচ্চ গতি ছিল না বলে জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের জীবাশ্মবিদ টমাস হোল্টজ জুনিয়র। তিনি জানান, কাদা বা ভেজা মাটিতে পিছলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকায় টি-রেক্সটি ধীরগতিতে হাঁটছিল; শক্ত মাটিতে এটি আরও দ্রুত চলতে সক্ষম ছিল।
এর আগে ১৯৯৮ সালে নিউ মেক্সিকো এবং ২০০৮ সালে মন্টানায় প্রাপ্তবয়স্ক টি-রেক্সের দুটি বিচ্ছিন্ন পায়ের ছাপ পাওয়া গেলেও, পরপর কয়েকটি পদচিহ্ন বা হাঁটার পথ এবারই প্রথম আবিষ্কার হলো। গত ৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক সাময়িকী 'জার্নাল অব ভার্টিব্রেট প্যালিওন্টোলজি'-তে এই গবেষণার প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











