ট্রাম্পের রাজকীয় সংবর্ধনা পেলেও সব দাবি পূরণ হয়নি শি জিনপিংয়ের

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৫:১২
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ট্রাম্পের রাজকীয় সংবর্ধনা পেলেও সব দাবি পূরণ হয়নি শি জিনপিংয়ের
ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তবে এই হাই-প্রোফাইল সফর থেকে বেইজিংয়ের মূল যেসব প্রত্যাশা ছিল, তার সবকটি পূরণ হয়নি। বাণিজ্য নীতি, উন্নত প্রযুক্তি, তাইওয়ান সংকট এবং বিরল খনিজ সরবরাহের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে দুই পরাশক্তির মতপার্থক্য এখনো স্পষ্ট। ফলে কূটনৈতিক সম্পর্ক দৃশ্যত কিছুটা শিথিল হলেও দুই দেশের মধ্যকার বৈশ্বিক আধিপত্যের প্রতিযোগিতা কমেনি।

​শুল্ক চুক্তি ও অর্থনৈতিক চাপ

যুক্তরাষ্ট্র যেন প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চীনের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি না করে—এটিই ছিল বেইজিংয়ের প্রধান লক্ষ্য। তবে এবারের আলোচনায় চীনা প্রেসিডেন্ট প্রত্যাশিত কৌশলগত সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়েছেন। দুই দেশের চলমান পাল্টাপাল্টি শুল্ক স্থগিত রাখার মেয়াদ কেবল আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যেখানে চীন এই সমঝোতা অন্তত এক বছর বহাল রাখার প্রস্তাব করেছিল। ফলে শুল্কনীতি এবং আধুনিক চিপ প্রযুক্তিতে চীনের প্রবেশাধিকারের বিষয়গুলো আগামী দিনের আলোচনার ওপর নির্ভর করছে।

​অন্যদিকে, অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি সামলাতেও চাপে রয়েছেন শি জিনপিং। চীনে রেকর্ড রফতানি হলেও স্থানীয় বাজারে ভোক্তা ব্যয় কমেছে এবং তরুণদের বেকারত্ব বাড়ছে। সেই সঙ্গে আবাসন খাতের মন্দা দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার অব্যাহত রাখা চীনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

​তাইওয়ান সংকট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

বৈঠকে তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের দীর্ঘদিনের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন শি জিনপিং। তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রিকে বেইজিং তাদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি মনে করে। এর আগে ট্রাম্প তাইওয়ানের জন্য বরাদ্দ করা ১৪ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজ সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছিলেন, যাকে তিনি বেইজিংয়ের সঙ্গে দর-কষাকষির কৌশল হিসেবে দেখছেন। বৈঠকে শি জিনপিং তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করতে ট্রাম্পকে আহ্বান জানালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে এ নিয়ে কিছু বলেননি।

​আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি স্থান পায়। শি জিনপিং এআই প্রযুক্তিকে পুরোপুরি মানব নিয়ন্ত্রণে রাখার পক্ষে মতামত দেন। উল্লেখ্য, ট্রাম্প এআই সংক্রান্ত চরম ঝুঁকির ধারণাকে ইতিপূর্বে ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেছিলেন।

​পান্ডা কূটনীতির প্রত্যাবর্তন

কূটনৈতিক আলোচনার বাইরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক বার্তা হিসেবে ফিরছে চীনের বিখ্যাত ‘পান্ডা কূটনীতি’। শি জিনপিং নিশ্চিত করেছেন যে উপহারের অংশ হিসেবে ‘পিং পিং’ ও ‘ফু শুয়াং’ নামের দুটি জায়ান্ট পান্ডা শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাবে।

​বিমানবন্দরে ট্রাম্পের স্বশরীরে উপস্থিতি ও জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ভোজ বেইজিংয়ের কূটনৈতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করলেও, এসব আনুষ্ঠানিকতার অন্তরালে দুই দেশের কৌশলগত দ্বন্দ্ব এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0