বিশ্বমঞ্চে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, বাড়ছে কূটনৈতিক ও ঘরোয়া চাপ

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৭:৩৭
4 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
বিশ্বমঞ্চে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, বাড়ছে কূটনৈতিক ও ঘরোয়া চাপ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও বৈশ্বিক প্রভাব নতুন করে জোরদারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিভিন্ন কূটনৈতিক পদক্ষেপে তাঁর ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সম্প্রতি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে কঠোর বক্তব্য প্রদান এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেও সেখানে বড় কোনো কূটনৈতিক অর্জন সম্ভব হয়নি।

​বিশ্বনেতাদের অসম্মতি ও কড়া বার্তা

চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ইরান যদি চুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে দেশটিকে 'নিশ্চিহ্ন' করে দেওয়ার হুমকি দেন ট্রাম্প। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে নিজের কঠোর নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘বিজয়ীরাই লুটের মাল পায়’ এবং আন্তর্জাতিক লক্ষ্য অর্জনে মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত দেন।

​তবে ট্রাম্পের এই অবস্থানের বিপরীতে মিত্র ও অন্যান্য দেশের বিশ্বনেতাদের কাছ থেকে নজিরবিহীন প্রতিরোধ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ইরান সংঘাত প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে পরিচিত ইউরোপীয় ও এশীয় দেশগুলোর অনেকেই ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিতে অনীহা দেখিয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বিশ্বকে ‘জঙ্গলের আইনে’ ফিরে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে বলপ্রয়োগের পরিবর্তে ‘সভ্য আন্তর্জাতিক সমাজ’-এর পক্ষে অবস্থান ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে জানান, তাঁর দেশের জলসীমায় বিমানবাহী রণতরীর চেয়ে অপরাধ দমনে অর্থ ও অস্ত্রের প্রবাহ বন্ধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বেশি প্রয়োজন।

​মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও ঘরোয়া সংকট

ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরান যুদ্ধ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বিতভাবে শুরু হওয়া এই সংঘাত প্রায় সাত মাস ধরে গড়িয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি যুদ্ধ ইয়েমেন ও লোহিত সাগর অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এই সংঘাতের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, যা ট্রাম্পের জনসমর্থনে তীব্র চাপ তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

​চীন ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে দরকষাকষি

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে বড় কোনো সাফল্য অর্জিত হয়নি। জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজনের সবচেয়ে দৃশ্যমান ফল ছিল দুদেশের বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানো। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক বিরোধিতা করার আহ্বান জানান।

​ট্রাম্পের পূর্ববর্তী শুল্কনির্ভর কঠোর নীতির তুলনায় এবার তাঁর অবস্থান তুলনামূলক নমনীয় ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের প্রযুক্তি ও গাড়ি উৎপাদনের জন্য জরুরি বিরল খনিজ সম্পদের ওপর আধিপত্যের কারণে ট্রাম্প এই কৌশল বেছে নিয়ে থাকতে পারেন।

​এ ছাড়া ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সীমিত পরিসরে জ্বালানি যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার মার্কিন উদ্যোগেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। অন্যদিকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে সেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সমঝোতা হলেও, গ্রিনল্যান্ডের 'মালিকানা' নেওয়ার ট্রাম্পের আগের দাবির তুলনায় এটি অত্যন্ত সীমিত অর্জন।

​মধ্যবর্তী নির্বাচন ও পরিবর্তনশীল বিশ্বরাজনীতি

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি ট্রাম্পের সামনে এখন বড় পরীক্ষা আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন। কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ঝুঁকির মুখে থাকায় এই নির্বাচনের ফল ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাকে আরও সংকুচিত করতে পারে। ইউরেশিয়া গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ইয়ান ব্রেমারের মতে, এক বছর আগে খুব কম দেশই ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে অস্বীকার করার সাহস দেখাত; অথচ বর্তমানে কানাডা, ইউরোপ, চীন, ইরান ও রাশিয়া তাঁর অবস্থানকে সরাসরি ‘না’ বলতে দ্বিধা করছে না।

​তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতি থমকে যাওয়ার ধারণা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প লোকদেখানো অবস্থানের চেয়ে বাস্তব ফলাফলে বিশ্বাসী। বিশ্বনেতাদের প্রকাশ্য বক্তব্যের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলোচনার বাস্তব চিত্রে বেশ পার্থক্য রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0