বাংলাদেশি কোচ ফাতেমার হাত ধরে চীনের নারী ক্রিকেটে নীরব বিপ্লব

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ২০:২৬
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
বাংলাদেশি কোচ ফাতেমার হাত ধরে চীনের নারী ক্রিকেটে নীরব বিপ্লব
ছবি: সংগৃহীত

এশিয়ার নারী ক্রিকেটে শক্ত ভিত্তি তৈরি করে ধীরে ধীরে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে চীন। দৃশ্যপটের বাইরে থাকা এই দলটির উন্নতির নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশি কোচ ফাতেমা তুজ জোহরা। বর্তমানে কাতার জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্বরত ফাতেমা অস্ট্রেলিয়া, মালদ্বীপ ও চীনে সাফল্যের সঙ্গে কাজ করেছেন। চীনের নারী ক্রিকেট দলের সঙ্গে প্রায় দুই বছরের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় কাছ থেকে দেখেছেন তাদের বদলে যাওয়ার রূপরেখা।

​পেশাদারি ও র‌্যাঙ্কিংয়ে বড় অগ্রগতি

চীনা ক্রিকেটারদের শৃঙ্খলা ও কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা দলকে দ্রুত এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছে বলে মনে করেন ফাতেমা। তিনি জানান, খেলোয়াড়দের খাদ্যাভ্যাস সচেতনতা, নিয়মকানুন মানার তাগিদ ও শেখার আগ্রহ প্রবল। এরই ফলশ্রুতিতে মাত্র দুই বছরের মধ্যে আইসিসির টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে ১০ ধাপ উন্নতি করেছে চীনের নারী দল। সম্প্রতি হংকং চায়না, ইন্দোনেশিয়া ও ওমানের মতো শক্তিশালী দলগুলোকে হারিয়ে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে তারা।

​ভাষা ও দল পুনর্গঠনের বড় চ্যালেঞ্জ

২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন ফাতেমা চীন নারী দলের দায়িত্ব নেন, তখন দলটি দীর্ঘদিন প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের বাইরে ছিল। তার ওপর ছয়জন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার স্নাতক সম্পন্ন করে ক্রিকেট ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। একমাত্র বিদেশি কোচ হওয়ায় ভাষার বাধাও ছিল এক বড় সংকট। এ পরিস্থিতি সামলাতে ফাতেমা ইউটিউবের মাধ্যমে ১৫ দিনের বিশেষ ভাষা কোর্স করেন, যাতে মাঠে অন্তত ক্রিকেটীয় শব্দগুলো সহজে বোঝানো যায়। এরপর নতুন খেলোয়াড়দের সন্ধানে তিনি বিভিন্ন স্কুল ও স্থানীয় লিগগুলোতে নজর দিতে শুরু করেন।

​অধিনায়ক মিংইউ ঝুর রূপান্তর

ফাতেমার হাতে তৈরি হওয়া নতুন ক্রিকেটারদের একজন চীনের বর্তমান অধিনায়ক মিংইউ ঝু। একাডেমিক ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি যিনি ক্রিকেট ও আম্পায়ারিংকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন, তাকেই প্রধান অলরাউন্ডার হিসেবে গড়ে তোলেন এই বাংলাদেশি কোচ। কেবল ব্যাটার হিসেবে শুরু করা মিংইউ ঝুকে বোলিং শিখিয়ে মূল দলের প্রাণশক্তিতে পরিণত করা হয়। ২০৩২ সালের অলিম্পিককে লক্ষ্য রেখে চীনা নারী ক্রিকেটে যে দূরদর্শী পরিকল্পনা করা হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে দলটি ভবিষ্যতে বিশ্বমঞ্চে রাজত্ব করতে পারে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন ফাতেমা।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0