এমবাপ্পের জোড়া গোলে ইরাককে ৩-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বে ফান্স
বৃষ্টি বিঘ্নিত ৪ ঘন্টার ম্যাচে ইরাককে ৩-০ গোলে হারিয়ে নকআউট পর্বে উঠে গেছে ফান্স। বৃষ্টি আর বজ্রপাতের কারণে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের ম্যাচ শেষ হতে সময় লাগে চার ঘণ্টা। চার ঘন্টার এ ম্যাচে এমবাপ্পে করেন দুই গোল। সেনেগালের পর এবার ইরাকের বিপক্ষেও চোখধাঁধানো জোড়া গোল করেন তিনি । অপর গোলটি করেন উসমান দেম্বেলে।
ফরাসি অধিনায়ক এমবাপ্পে ফিলাডেলফিয়ার এই ম্যাচে জোড়া গোল করার পথে বিশ্বমঞ্চে অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন। প্রথম গোলটি দিয়ে তিনি স্পর্শ করেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিওকে। আর দ্বিতীয় গোলের পর রোনালদোকে ছাড়িয়ে ছুঁয়ে ফেলেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড।
ফ্রান্সের হয়ে নিজের ১০০তম ম্যাচ খেলতে নেমে ম্যাচের ১৪ মিনিটেই এমবাপ্পে দলকে লিড এনে দেন। ডি-বক্সের প্রায় ২০ গজ দূর থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো এক শটে বল জালে জড়ান তিনি। এই জাদুকরী গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ফ্রান্স। ৪১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। শরীরকে চমৎকারভাবে স্পিন করিয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে বক্সে ঢুকলেও, শেষ মুহূর্তে ইরাকি ডিফেন্ডার হুসেইন আলির দুর্দান্ত স্লাইডে সে যাত্রা গোল পাননি এমবাপ্পে।
এসময় শুরু হয় প্রচন্ড বৃষ্টি ও বজ্রপাত ফলে প্রায় ২ ঘণ্টা খেলা বন্ধ থেকে বিরতিতে যায় । বিরতির পর এমবাপ্পে মাঠে ফিরেই দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪ মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করেন নেন । ইরাকের ডিফেন্ডার আহমেদ কাসেম গোলরক্ষক বাসিলকে ব্যাকপাস দিলে তিনি তা নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন। বল চলে যায় উসমান দেম্বেলের পায়ে। বক্সে থাকা ফাঁকা পোস্টে বল বাড়িয়ে দেন। এ সুযোগ কাজে লাগাতে এতটুকু ভুল করেননি তিনি।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে ১৬ গোল নিয়ে মিরোস্লাভ ক্লোসার সাথে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দুই নম্বরে উঠে এলেন এমবাপ্পে। এই তালিকার শীর্ষে আছেন ১৮ গোল করা লিওনেল মেসি। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে ওলিসের পাস থেকে ব্যবধান ৩-০ করেন দেম্বেলে। বক্সের ভেতর ডিফেন্ডারকে পরাস্ত করে ডান পায়ের জোরালো শটে এবারের বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করেন পিএসজির এই ফরোয়ার্ড। গোল করার পরপরই তার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন দেজিরে দুয়ে।
ইরাকের আল হামাদি ৭৫ মিনিটা ব্যবধান কমানোর একটি সুবর্ণ সুযোগ পেলেও তার নেওয়া ভলিটি অল্পের জন্য পোস্টের পাশ দিয়ে চলে যায়। এমবাপ্পে ম্যাচের ৮০ মিনিটে এবং একদম শেষ সময়ে হ্যাটট্রিক করার দুটি সুযোগ হাতছাড়া করেন। শেষ সুযোগটিতে দুই ডিফেন্ডারকে গতিতে পরাস্ত করলেও তার বাঁ পায়ের শটটি পোস্টের অনেক উপর দিয়ে চলে যায়। এরপরই এমবাপ্পেকে তুলে নেন ফরাসি কোচ। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-০ ব্যবধানের সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











