বর্তমান সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করে দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
বর্তমান সরকারকে জনগণের সরকার হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করা এবং তাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের পবিত্র আমানত। বর্তমান প্রশাসন যেকোনো মূল্যে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকেল ৫টায় এই অধিবেশন শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী একটি কল্যাণমুখী ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাই যেখানে সরকার জনগণের মুখোমুখি দাঁড়াবে, অর্থনীতি হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রতিটি নাগরিকের জীবন হবে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ। সদ্য পাস হওয়া বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব ও জনবান্ধব’ আখ্যা দিয়ে তিনি এর সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি-বেসরকারি খাতসহ সব শ্রেণী-পেশার মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
উগ্রবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে দ্বিমত থাকতে পারে, তবে দেশের নিরাপত্তা ও চরমপন্থা দমনে সবাই একমত। এ ক্ষেত্রে তিনি বিরোধী দলের পূর্ণ সহযোগিতা আশা করেন।
কৃষক ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের প্রায় ১৩ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। এ ছাড়া সমাজকে কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মগুরুদের সম্মানী প্রদানের কাজ শুরু হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’-এর আওতায় আনা হবে।
অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য ঋণ-নির্ভর অর্থনীতি থেকে দেশকে বিনিয়োগ-নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করা। এই ধারা বজায় রেখে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। দুর্নীতি দমন ও অর্থ পাচার রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারের আমলে প্রতি বছর দেশ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হওয়ার কারণে অর্থনীতি সংকটে পড়েছে। তবে বর্তমান সরকার পাচার হওয়া অর্থ নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর।
পরিবেশ রক্ষায় আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করে তিনি বলেন, প্রতিবছর ৫ কোটি চারা রোপণের পাশাপাশি ১০ হাজার নার্সারি গড়ে তোলা হবে, যা আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদার হিসেবে গড়ে তুলতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
সবশেষে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ এবং বিএনপির ঘোষিত ‘৩১ দফা’ রূপরেখা এখন দেশের সাধারণ মানুষের দাবিতে পরিণত হয়েছে। সরকার এই সনদের প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। এরপর আসরের নামাজের বিরতি শেষে রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠের মাধ্যমে গত ৭ জুন শুরু হওয়া বাজেট অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











