শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা উদযাপনে মিলেছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল পরিচয়: রাষ্ট্রপতি

১৯ অক্টোবর ২০২৬ - ২০:১৬
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা উদযাপনে মিলেছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল পরিচয়: রাষ্ট্রপতি
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অত্যন্ত শান্তিময় পরিবেশে তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারছেন—এটিকে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

​সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া নিজের এক ভেরিফায়েড বার্তায় তিনি এই মন্তব্য প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন যে, বিশ্বজুড়ে যখন নানামুখী সংঘাত, বিভেদ ও সহিংসতা বিরাজ করছে, তখন বাংলাদেশে শারদীয় দুর্গোৎসবের এই শান্তিপূর্ণ আয়োজন জাতীয় ঐক্যের ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

​এর আগে গত রবিবার (১৮ অক্টোবর) ঢাকার ঐতিহাসিক রমনা কালী মন্দির পরিদর্শনে যান রাষ্ট্রপতি। সেখানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমরা দৃঢ়কণ্ঠে বলতে পারি, বাংলাদেশে যে ধরনের গভীর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিদ্যমান, তা বিশ্বে বিরল।” তিনি আরও যোগ করেন, দুর্গাপূজার মূল সুর হলো ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠা, সামাজিক শান্তি ও মানবের কল্যাণ সাধন। ইতিহাস স্মরণ করে তিনি মন্তব্য করেন যে, এ দেশের মাটিতে বহুবার অশুভ ও অসুরের আবির্ভাব ঘটলেও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করেছে।

​রমনা কালী মন্দিরের ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি জানান, ১৯৭১ ও ১৯৭৩ সালে এই মন্দিরের ওপর আঘাত হানা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০১ সালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে মন্দিরটির পুনর্নির্মাণ ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়। বক্তব্যে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

​রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে খেদ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশের বিরাজমান সুদৃঢ় সম্প্রীতিকে ঘিরে প্রায়শই বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার চালানো হয়। এ ধরনের অপচেষ্টা রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

​অনুষ্ঠানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠীবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অর্পনা রায় দাস এবং সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্যসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শুরুতেই মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস রাষ্ট্রপতিকে ঐতিহ্যবাহী উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0