ময়লার ভাগাড় থেকে নয়নাভিরাম বাগান: আমিনবাজারে ‘রূপান্তর’ প্রকল্পের উদ্বোধন, ডিসি ফরিদার ভূয়সী প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর
দীর্ঘ দুই দশকের অবহেলা ও পরিবেশদূষণের অবসান ঘটিয়ে নতুন রূপ পেল ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার এলাকা। বর্জ্যের বিশাল স্তূপ সরিয়ে গড়ে তোলা চার কিলোমিটার দীর্ঘ ‘রূপান্তর’ বাগানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ও যুগান্তকারী এই পদক্ষেপের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় আমিনবাজারে একটি নিমগাছ রোপণের মাধ্যমে এ প্রকল্পের শুভ সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও সুদৃঢ় ইচ্ছা থাকলে একটি অবহেলিত এলাকাকে জনকল্যাণে কীভাবে বদলে দেওয়া যায়, আমিনবাজারের এই পরিবর্তন তারই উৎকৃষ্ট উদাহরণ। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে এই চার কিলোমিটার এলাকার যে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে, তা স্থানীয় মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও এই বাগানের সৌন্দর্য টিকিয়ে রাখার ওপর জোর দেন। তিনি জানান, সরকারি উদ্যোগে এলাকাটিকে সুন্দর করা হয়েছে, তবে এর স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য বজায় রাখা স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দায়িত্ব। জনগণ ও সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় পরিবেশগত ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।
এই পরিবেশবান্ধব মডেলটিকে কেবল চার কিলোমিটারে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও বিস্তৃত করার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। মহাসড়কের দুই পাশের শিল্পকারখানার মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে ফাঁকা জায়গাগুলোর পরিচর্যার দায়িত্ব ভাগ করে দিতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন তিনি। সেই সঙ্গে বর্জ্য সমস্যার স্থায়ী সমাধানে স্থানীয় সংসদ সদস্যদেরও জেলা প্রশাসনের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের এই উদ্যোগকে দেশের অন্যান্য ৬৩টি জেলার প্রশাসকদের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই প্রকল্প থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের অন্যান্য জেলাতেও অনুরূপ পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আমিনবাজার এলাকায় মহাসড়কের পাশে জমে থাকা আবর্জনা ৩০ ফুট উঁচু বর্জ্যের স্তূপে পরিণত হয়েছিল। গত জুলাই মাসে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সেনাবাহিনীর মহড়া পরিদর্শনে যাওয়ার পথে বিষয়টির তীব্রতা পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে তিনি ব্যবস্থার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের তত্ত্বাবধানে সাভার উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার যৌথ প্রচেষ্টায় তিন মাসের সার্বিক পদক্ষেপে এই বিশাল বর্জ্যস্তূপ অপসারণ সম্ভব হয়।
বর্জ্য অপসারণের পর ভূমি প্রস্তুতকরণ, পাড় রক্ষায় প্যালাসাইডিং, পানি নিষ্কাশনের জন্য ২০টি সারফেস ড্রেন ও সার্ভিস শেড নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাটির ক্ষয় রোধে নেপিয়ার, দুর্বা ও বিন্নাসহ বিভিন্ন জাতের ঘাস রোপণ করা হয়। প্রায় চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং ১০ থেকে ২৫ মিটার চওড়া এই বাগানে নিম, সুপারি, তাল, মাধবীলতা, সিজিয়াম ও রঞ্জনসহ মোট ৬,৫৮৫টি সবুজ গাছ ও শোভাবর্ধক উদ্ভিদ লাগানো হয়েছে। এছাড়া নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ হিসেবে সোলার প্যানেল ও উইন্ড টারবাইনের মাধ্যমে ৩ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং রাতের বেলা আলোর জন্য ১২০টি বাতি স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজধানীর অন্যতম প্রধান এই প্রবেশপথ এখন দূষণমুক্ত ও দৃষ্টিনন্দন রূপ লাভ করেছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











