অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আত্মরক্ষার ব্যাখ্যা দিলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
রাজধানীর গেণ্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী কর্মসূচির সময় প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের তীব্র সমালোচনার মুখে এর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। পরিস্থিতির আকস্মিকতায় নিজের ও সঙ্গীদের জানমালের নিরাপত্তায় আত্মরক্ষার্থেই লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ধরতে বাধ্য হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তার নামে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতির মাধ্যমে এ ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়।
এর আগে, শনিবার দয়াগঞ্জ ও গেণ্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র তাক করে তাড়া করা ও আইনি ভয় দেখানোর একটি খণ্ডিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পরপরই বিষয়টি নিয়ে নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
প্রকাশিত বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বলেন, ঘটনার দিন একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন আইনলঙ্ঘনকারী ব্যক্তি অতর্কিতে হইচই করে তাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে ধেয়ে আসে। সে সময় সরাসরি হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার স্বার্থে এবং নিরাপত্তাকর্মীদের সহযোগিতায় অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য তিনি লাইসেন্সকৃত অস্ত্রটি উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসামাত্রই অস্ত্রটি আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
ঘটনার পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে গেণ্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক ও করাতিটোলা এলাকা মাদক সিন্ডিকেটের ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়। গত জুনে মাদককেন্দ্রিক সহিংসতায় তিনজন নিরীহ মানুষ গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এলাকাটি সার্বিক পর্যবেক্ষণে রাখেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের জন্য ডিও লেটার দিলেও তা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের সমন্বিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এই সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছিল। অভিযানের আগেই গোয়েন্দা সূত্রে ছাদ থেকে গুলি বর্ষণসহ একাধিক নিরাপত্তাঝুঁকির আগাম তথ্য ছিল।
কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও ও খণ্ডিত শিরোনাম প্রকাশ করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে দাবি করে বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়, পুরো প্রক্রিয়াটি ব্যক্তিগত লাইসেন্সকৃত অস্ত্রের মাধ্যমে আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকেই সম্পূর্ণ আত্মরক্ষার্থে সম্পন্ন হয়েছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











