ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে শুরু হলো শারদীয় দুর্গোৎসব
মহাষষ্ঠীর ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ও কল্পারম্ভের মাধ্যমে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। শুক্রবার সকালে দেশের বিভিন্ন মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর আবাহন এবং পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সূচনা হয়।
এদিন সকাল ৯টা ৫৭ মিনিটে মন্দির ও মণ্ডপগুলোর বেলতলায় ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা শুরু হয়। ষোড়শ উপচারে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন ভক্তরা। এর আগে বোধনের মাধ্যমে দেবীর নিদ্রাভঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। সন্ধ্যার সময় মূল মণ্ডপে দেবীকে আমন্ত্রণ ও অধিবাসের আয়োজন করা হয়।
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণের বেলতলায় সকালে ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ভক্তরা মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে দেবীকে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করেন। এ সময় পুরো মন্দির চত্বর মুখর ছিল চণ্ডীপাঠে। মন্দিরের পুরোহিত ধর্মদাস চট্টোপাধ্যায় জানান, শুক্রবার ষষ্ঠীবিহিত পূজা সম্পন্ন হয়েছে এবং সন্ধ্যায় আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মাধ্যমে দেবীকে মন্দিরে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
পূজা উদ্যাপন কমিটির সূচি অনুযায়ী, শনিবার মহাসপ্তমীতে সপ্তমী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ের সঙ্গে প্রতিমায় চক্ষুদানের আনুষ্ঠানিকতাও সম্পৃক্ত রয়েছে। চলতি বছর মহাসপ্তমী তিথি শনি ও রোববার দুই দিন ব্যাপী বিস্তৃত থাকায় রোববারও সপ্তমীর বিশেষ পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সোমবার মহাঅষ্টমীতে সন্ধিপূজা ও কুমারী পূজা সম্পন্ন হবে। মঙ্গলবার মহানবমীর পূজা অর্চনার পর বুধবার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
উৎসবের দিনগুলোতে প্রতিদিন অঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ ও ভোগ-আরতির আয়োজন থাকবে। পাশাপাশি দেশজুড়ে মণ্ডপে মণ্ডপে আলোকসজ্জা, আরতি প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা, নাটক ও নৃত্যনাট্যসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ দেশের সব নাগরিককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশের ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ৩৫৫টি, ফলে এবার সারা দেশে মণ্ডপ বেড়েছে ৪৯৬টি। তবে ঢাকা মহানগরীতে এবার ২৫৮টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় তিনটি কম। গত বছর মহানগরীতে মণ্ডপের সংখ্যা ছিল ২৬১টি। রাস্তার ওপর পূজা আয়োজনের অনুমতি না পাওয়ায় মহানগরীতে মণ্ডপ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
এদিকে দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ, আনসার, এসআরবি ও বিজিবি সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবকেরাও দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











