কুষ্টিয়ায় মারামারি ও গাড়ি ভাঙচুর: এমপি আমির হামজার বাসভবনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন

১৬ আগস্ট ২০২৬ - ০০:২৭
প্রকাশিত: ২ মাস আগে
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
কুষ্টিয়ায় মারামারি ও গাড়ি ভাঙচুর: এমপি আমির হামজার বাসভবনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মুফতি আমির হামজার কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সংসদ সদস্যের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং তিনি নিজে আহত হয়েছেন। পরবর্তী অপ্রীতিকর ঘটনা ও ভাঙচুর এড়াতে এমপি আমির হামজার বাড়ির সুরক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

​শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়ায় অবস্থিত সংসদ সদস্যের বাসার আশপাশে এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। একই সময়ে সংসদ সদস্যের বহুতল ভবনের সামনে গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক এবং এমপির কয়েকশত সমর্থককে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

​স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে এমপি আমির হামজার দেওয়া কিছু বক্তব্যের প্রতিবাদে শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে গণঅধিকার পরিষদ। এদিকে এমপি আমির হামজা পুলিশি পাহারায় বাড়ি ফেরার পথে সমাবেশস্থলের কাছে পৌঁছালে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এ সময় গাড়ির ভিতর থেকে এমপির সমর্থকরা স্লোগান দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি, হাতাহাতি এবং পরে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে।

​এই সংঘর্ষের ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর ৭ জন এবং গণঅধিকার পরিষদের ৩ জনসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

​ঘটনার বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌকির আহমেদ অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য তাদের দলকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন। তার প্রতিবাদে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ মিছিলে এমপির সমর্থকরা অতর্কিত হামলা চালায়। তবে এমপি আমির হামজার কর্মীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরাই প্রথম আক্রমণ চালান এবং তারা কেবল তা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন।

​আহত সংসদ সদস্য আমির হামজা বলেন, “আমি একটি সরকারি কর্মসূচির কাজে বাইরে ছিলাম। খবর পাই আমাকে লক্ষ্য করে গালাগালি করা হচ্ছে। থানায় খবর দিয়ে ফেরার পথে আমার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা লাঠি ও হকিস্টিক দিয়ে আমার গাড়িতে আক্রমণ চালায়, এতে আমার মাথায় আঘাত লাগে এবং আমার চাচার পা কেটে যায়। আব্দুল খালেক ও তৌকিরের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে এবং আমি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।”

​কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, সংঘর্ষ শুরুর পরপরই পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অন্যদিকে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাতব্বর হোসেন জানান, এমপির নিরাপত্তার স্বার্থে ও বাড়ি ঘেরাওয়ের আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0