কাঁঠালের বিচির পুষ্টিগুণ,সুস্বাস্থ্যের জন্য এর দারুণ ৭টি উপকারিতা
বাঙালির বারো মাসের ফলের মধ্যে কাঁঠাল অন্যতম। অনেকেই ফল হিসেবে কাঁঠাল খেতে খুব একটা পছন্দ না করলেও, এর বিচি দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পদ বেশ তৃপ্তি সহকারে খেয়ে থাকেন। কাঁঠালের বিচি ভেজে, ভর্তা করে কিংবা মাছ ও মাংসের তরকারিতে দিয়ে খাওয়ার প্রচলন বেশ পুরনো। তবে এটি কেবল রসনাতৃপ্তিই ঘটায় না, বরং মানবদেহের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার।
খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে শরীরের জন্য উপকারী নানা উপাদান। এটি মানবদেহের পরিপাকতন্ত্রকে সচল রাখতে এবং হজমশক্তি বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। সেই সঙ্গে এটি নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো অস্বস্তিকর সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষাতেও এর অবদান রয়েছে; এতে থাকা পর্যাপ্ত প্রোটিন ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট মানসিক চাপ বা ধকল কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ত্বক ও চুলের যত্নেও কাঁঠালের বিচি দারুণ কার্যকরী। এটি ত্বকের সজীবতা ধরে রাখতে এবং বয়সের ছাপ বা বলিরেখা দূর করতে সহায়তা করে। এছাড়া, চুলের গোড়া শক্ত করতে, চুল পড়া কমাতে এবং চুলের আগা ফেটে যাওয়ার সমস্যা প্রতিরোধে এটি ভূমিকা রাখে। ভিটামিন ‘এ’ এর একটি ভালো উৎস হওয়ায় কাঁঠালের বিচি চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে এবং রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকায় এটি শরীরে রক্তের ঘাটতি পূরণ করে রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।
কাঁঠালের বিচির পুষ্টিমান:
পুষ্টিবিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম ওজনের কাঁঠালের বিচি থেকে মানবদেহ প্রায় ৯৮ ক্যালরি শক্তি পেয়ে থাকে। এছাড়া এই পরিমাণ বিচিতে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা রয়েছে ৩৮.৪ গ্রাম, প্রোটিন বা আমিষ রয়েছে ৬.৬ গ্রাম, চর্বি রয়েছে ০.৪ গ্রাম এবং খাদ্যআঁশ বা ফাইবার রয়েছে ১.৫ গ্রাম। এর বাইরেও শরীর সতেজ ও রোগমুক্ত রাখতে এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, সোডিয়াম ও পটাসিয়ামের মতো অত্যাবশ্যকীয় খনিজ উপাদান বিদ্যমান।
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, যেকোনো পুষ্টিকর খাবারই অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। তাই সুস্বাস্থ্যের জন্য পরিমিত পরিমাণে কাঁঠালের বিচি খাদ্যতালিকায় রাখা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











