জার্মানির বিমানবন্দরে বিষাক্ত সাপ ও টিকটিকিসহ মেক্সিকোর দমকলকর্মী আটক

১৬ অক্টোবর ২০২৬ - ২২:৩৪
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
জার্মানির বিমানবন্দরে বিষাক্ত সাপ ও টিকটিকিসহ মেক্সিকোর দমকলকর্মী আটক
ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির কোলন বন বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ বিষধর সাপ ও টিকটিকি পাচারের চেষ্টার অভিযোগে মেক্সিকোর এক নাগরিককে আটক করেছেন দেশটির শুল্ক কর্মকর্তারা। আটক হওয়া ৪৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি পেশায় একজন দমকলকর্মী। তার সঙ্গে থাকা স্যুটকেসে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে লুকানো অবস্থায় প্রাণীগুলো উদ্ধার করা হয়।

​শুল্ক বিভাগ সূত্র জানায়, বিমানবন্দরে ‘কিছু ঘোষণা করার নেই’ (Green Channel) চিহ্নিত পথ ধরে স্থান ত্যাগ করার সময় ওই ব্যক্তির চলাফেরায় অস্বাভাবিক উদ্বিগ্নতা লক্ষ্য করা যায়। সন্দেহ হলে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার শরীরে কোকেনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এরপর তার ব্যবহৃত স্যুটকেসে তল্লাশি চালানো হলেও কোনো মাদক মেলেনি, বরং সেখানে মেলে বিপুল সংখ্যক বিরল ও বিষাক্ত সরীসৃপ।

​কোলন শুল্ক দপ্তরের মুখপাত্র ইয়েন্স আহল্যান্ড জানান, তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোর মধ্যে ভাইপার ও র‍্যাটলস্নেকসহ ৩৭টি জীবিত বিষধর সাপ এবং ইগুয়ানাসহ ৫৫টি বিভিন্ন প্রজাতির টিকটিকি ছিল। প্রাণীগুলো শ্যাম্পু ও ক্রিমের বোতল, প্লাস্টিকের কনটেইনার এবং মোজার ভেতরে অত্যন্ত সংকীর্ণ পরিবেশে রাখা হয়েছিল।

​অমানবিক পরিবহন ও আইনি ব্যবস্থা

​মুখপাত্র ইয়েন্স আহল্যান্ড আরও বলেন, বিমানবন্দরে অনেক ধরনের অবৈধ স্মারকসামগ্রী জব্দের অভিজ্ঞতা থাকলেও মেক্সিকো থেকে এত বিপুল পরিমাণ জীবিত বিষধর সাপ ও টিকটিকি পাচারের ঘটনা একেবারেই অভূতপূর্ব। অমানবিক উপায়ে পরিবহনের কারণে মেক্সিকো সিটি থেকে ইস্তাম্বুল হয়ে জার্মানি আসার দীর্ঘ যাত্রাপথে বেশ কয়েকটি প্রাণী মারা যায়।

​জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি দাবি করেন, ব্রাজিলের এক পরিচিত ব্যক্তির অনুরোধে তিনি এসব প্রাণী বহন করছিলেন। তবে তাকে জার্মানির অভ্যন্তরে প্রবেশের অনুমতি না দিয়ে বিমানে ইস্তাম্বুলে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আর উদ্ধার হওয়া জীবিত প্রাণীগুলোকে জরুরি সেবা ও পরিচর্যার জন্য জার্মানির একটি বিশেষায়িত সাপ খামারে হস্তান্তর করা হয়েছে।

​উল্লেখ্য, জার্মানিজুড়ে অবৈধ বন্যপ্রাণী পাচারের ঘটনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর আগে একই বিমানবন্দরে মেক্সিকো থেকে পার্সেলের মাধ্যমে আনা ২৬টি বিরল প্রজাতির সরীসৃপ উদ্ধার করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল জার্মানির ব্যক্তিগত সংগ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0