ইরান ইস্যুতে এখনো যে তিনটি সামরিক বিকল্পের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও অচলাবস্থার মধ্যে দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা নিয়ে বিশ্লেষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে আর নতুন করে হামলা না চালানোর বার্তা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও শক্তি মোতায়েন অব্যাহত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের হামলা আরও জোরদার হয়েছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে এবং ওই অঞ্চলের অভিমুখে মার্কিন নৌবাহিনীর অন্তত তিনটি বিমানবাহী রণতরির (এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার) স্ট্রাইক গ্রুপ অবস্থান করছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সামনে প্রধানত তিনটি সামরিক বিকল্প রয়েছে:
- নৌ অবরোধ: ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা। তবে এতে হরমুজ প্রণালির চলমান উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
- পুনরায় বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: তবে টানা কয়েক মাসের লড়াইয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র ও ইন্টারসেপ্টরের মজুত কিছুটা কমে এসেছে। পাশাপাশি ইরানও তাদের সামরিক কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। ফলে আবার হামলা চালানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সামরিক সক্ষমতা হিসাব করতে হচ্ছে।
- সীমিত স্থল অভিযান: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ দখলের একটি সম্ভাবনা আলোচনায় রয়েছে। তবে এই দ্বীপে অভিযান চালাতে গেলে মার্কিন সেনাদের বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।
বিশ্লেষকদের অভিমত, মার্কিন বাহিনীর পক্ষে ইরানে পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা একেবারেই কম। কারণ, এতে ব্যাপক প্রাণহানির পাশাপাশি পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে, সামরিক চাপ বজায় রাখার বিভিন্ন পথ খোলা থাকলেও প্রতিটিতেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











