ডেঙ্গুতে কেন প্লাটিলেট কমে ও কখন হবেন সতর্ক: চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা

০২ অক্টোবর ২০২৬ - ১৯:৫৯
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ডেঙ্গুতে কেন প্লাটিলেট কমে ও কখন হবেন সতর্ক: চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা
ছবি: সংগৃহীত

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর রক্ত পরীক্ষায় প্লাটিলেট বা অণুচক্রিকা কমে যাওয়া নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে তীব্র উৎকণ্ঠা দেখা যায়। তবে চিকিৎসকদের মতে, রক্তে প্লাটিলেটের সংখ্যা হ্রাস পাওয়া মানেই রোগটি বিপজ্জনক রূপ ধারণ করেছে—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। ডেঙ্গু ভাইরাসের সংক্রমণের ফলে মানবদেহে যেসব স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া ঘটে, অণুচক্রিকা কমে যাওয়া তারই একটি অংশ। চিকিৎসকেরা কেবল প্লাটিলেটের ওপর নির্ভর না করে রোগীর সার্বিক শারীরিক অবস্থা ও বিপদের লক্ষণ বিবেচনা করে থাকেন।

​ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও শরীরের প্রতিক্রিয়া

এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সাধারণত রোগীদের মধ্যে উচ্চ মাত্রার জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনের অংশে ব্যথা, পেশি ও অস্থিসন্ধিতে যন্ত্রণা, বমি ভাব এবং ত্বকে লালচে ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ দেখা দেয়। অধিকাংশ রোগী সঠিক চিকিৎসায় সুস্থ হলেও কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিচারে ডেঙ্গুর সময়কালকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়—জ্বরের পর্যায়, সংকটকাল এবং সুস্থ হওয়ার পর্যায়।

​প্লাটিলেট হ্রাসের মূল কারণ

রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করাই হলো প্লাটিলেটের প্রধান কাজ। ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রভাবে প্রধানত তিনটি কারণে প্লাটিলেট কমে যায়—অস্থিমজ্জায় রক্তকণিকা তৈরিতে বাঁধা সৃষ্টি, রক্তে বিদ্যমান প্লাটিলেট দ্রুত ধ্বংস হওয়া এবং শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। এছাড়া, এই সময় রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যাও কমে যেতে পারে। সংকটকালে প্লাটিলেট দ্রুত কমার পাশাপাশি রক্তের ঘনত্ব বাড়তে থাকলে রক্তনালি থেকে তরল বের হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

​প্লাটিলেট কমলেই কি রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাটিলেট কমলেই রক্তপাত হবে—এমন নিশ্চিত ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। চিকিৎসকেরা চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে রক্তনালি থেকে প্লাজমা বা তরল নির্গমন, রক্তপাত ও অন্যান্য শারীরিক উপসর্গকে সমান গুরুত্ব দেন।

​জ্বর কমার পরের সময় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ডেঙ্গুতে জ্বর কমে যাওয়াকে সবসময় সম্পূর্ণ সুস্থতার লক্ষণ বলা যায় না। জ্বর ছাড়ার পর প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা বা ‘সংকটকালে’ কিছু রোগীর ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ সময় পেটব্যথা, ক্রমাগত বমি, নাক বা মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়া, পায়খানা বা বমির সঙ্গে রক্ত যাওয়া, প্রচণ্ড দুর্বলতা ও অস্থিরতা দেখা দিলে তা গুরুতর ডেঙ্গুর সতর্কসংকেত হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। রক্তনালি থেকে তরল বেরিয়ে রক্তচাপ কমে গেলে শারীরিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।

​প্লাটিলেট পুনঃবৃদ্ধির প্রক্রিয়া

সংকটকাল সফলভাবে অতিক্রম করার পর রোগী স্বাভাবিক সুস্থতার পর্যায়ে প্রবেশ করে। এ সময় প্রথমে রক্তে শ্বেত রক্তকণিকা এবং পরবর্তীতে প্লাটিলেটের সংখ্যা প্রাকৃতিকভাবেই বাড়তে শুরু করে।

​ডেঙ্গু নিরাময়ে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তাই উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ, সঠিক পুষ্টি ও পর্যাপ্ত তরল বজায় রাখাই চিকিৎসার মূল ভিত্তি। জ্বর কমার পর কোনো বিপদচিহ্ন দেখা গেলে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা হাসপাতালে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

​(প্রতিবেদনটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের স্বাস্থ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়েছে।)

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0