জাতিসংঘের সতর্কতা উপেক্ষা করে দেড় হাজার মিয়ানমার নাগরিককে পাঠাল মালয়েশিয়া
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগ ও সতর্কতা উপেক্ষা করে প্রায় দেড় হাজার নাগরিককে নৌবাহিনীর জাহাজে করে স্বদেশে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া। যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুন বন্দরে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই জাহাজগুলোর পৌঁছানোর কথা রয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) মিয়ানমারের সরকারি সংবাদমাধ্যমের বরাতে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় দৈনিক ‘দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট অব মিয়ানমার’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটির নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজে করে ১ হাজার ৪৭৬ জন নাগরিককে ইতিমধ্যেই নিজেদের জলসীমায় নিয়ে আসা হয়েছে। মূলত অবৈধভাবে বসবাস এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন আটকশিবিরে সাজাভোগের পর তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
মালয়েশিয়া এই পদক্ষেপকে পুরোপুরি স্বেচ্ছামূলক বলে দাবি করলেও জাতিসংঘ জানিয়েছে, মিয়ানমারের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি শরণার্থীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য একেবারেই উপযোগী নয়। জাতিসংঘে মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত কেলি ই. কারি এই পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মালয়েশিয়াকে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে সংকট সমাধানে জাতিসংঘের সাথে কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন।
৫ হাজার মানুষকে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা
মিয়ানমার সরকারের তথ্যমতে, মোট ৫ হাজার নাগরিককে স্বদেশে ফিরিয়ে আনার একটি বড় প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার প্রথম ধাপ এটি। তবে ফেরত পাঠানো এই দলটিতে মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের কেউ রয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানের পর অনেক রোহিঙ্গা মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের মুখে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি জোরদার করেছে মালয়েশিয়া সরকার।
এদিকে বাস্তুচ্যুত মানুষদের ফেরত নেওয়া ও সংঘাত নিরসনসংক্রান্ত আলোচনার অংশ হিসেবে মিয়ানমারের জান্তাপ্রধান তথা প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং চলতি মাসেই মালয়েশিয়া সফর করবেন বলে জানা গেছে। সমুদ্রযাত্রার সময় ফেরত পাঠানো নাগরিকদের প্রাথমিক চিকিৎসা, খাদ্য ও পোশাক দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। ইয়াঙ্গুনে পৌঁছানোর পর তাদের নিজ নিজ এলাকায় পাঠানো এবং পুনর্বাসনে সহায়তা দেওয়ার কথা জানিয়েছে তারা।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











