আসিয়ান কাপ ফুটবল: ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে হারলো বাংলাদেশ

০১ অক্টোবর ২০২৬ - ২০:৫৪
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
আসিয়ান কাপ ফুটবল: ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে হারলো বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

ফিফা আসিয়ান কাপের শেষ ম্যাচটিতে ইতিবাচক ফল নিয়ে মাঠ ছাড়ার লক্ষ্য থাকলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্লো স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ইন্দোনেশীয় ফরোয়ার্ড মিসেল বেকারের বিধ্বংসী পারফরম্যান্সে ম্যাচটিতে পাত্তা পায়নি সফরকারীরা।

​প্রথমার্ধেই ৬ গোলের ধাক্কা

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলে একটি পরিবর্তন আনা হয়; শেখ মোরসালিনের জায়গায় একাদশে সুযোগ পান শাহরিয়ার ইমন। ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট রক্ষণ সামলে খোলামেলা ফুটবল খেলার ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে একাদশের পর থেকেই একের পর এক আক্রমণ সাজায় ইন্দোনেশিয়া। ১১ মিনিটে থ্রো-ইন থেকে পাওয়া বলে রোমিনির বাড়ানো পাস ধরে দূরের পোস্টে গড়িয়ে প্লেসিং শটে দলকে এগিয়ে নেন মিসেল বেকার। গোলরক্ষক শ্রাবণ চেষ্টা করেও বলের নাগাল পাননি।

​১৪ মিনিটে স্বাগতিকদের আরেকটি আক্রমণ নস্যাৎ করেন শ্রাবণ। ১৯ মিনিটে শাহরিয়ার ইমনের বাড়ানো ক্রসে কোনো সতীর্থ পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হলে সমতায় ফেরা হয়নি বাংলাদেশের। উল্টো পাল্টা আক্রমণে গিয়ে গোলমুখের জটলা থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন ৬ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার ফরোয়ার্ড মিসেল বেকার।

​৩২ মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করে স্বাগতিকরা। ওরাটমাংগোয়েনের কাটব্যাক ডিফেন্ডার তারিক কাজী ক্লিয়ার করার চেষ্টা করলে বল পান রিদো রিজকি। তার জোরালো ডান পায়ের শটে বল জালে জড়ায়। ৩৬ মিনিটে ব্যবধান কমায় বাংলাদেশ। শুকির নিখুঁত ক্রসে দারুণ হেডে গোল করেন শাহরিয়ার ইমন (৩-১)। তবে ঠিক পরের মিনিটেই (৩৭ মিনিট) পোস্টের সামনে থেকে সহজ প্লেসিংয়ে নিজের হ্যাট্রিক পূর্ণ করে দলকে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন বেকার।

​৪২ মিনিটে বাংলাদেশের ভুল পাসের সুযোগ নিয়ে হেডে নিজের চতুর্থ গোলটি আদায় করেন বেকার। আর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জাস্টিন হাবনার ইন্দোনেশিয়ার পক্ষে ষষ্ঠ গোলটি করলে ৬-১ ব্যবধানে বিরতিতে যায় দুই দল।

​দ্বিতীয় অর্ধে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা ও উত্তেজনা

দ্বিতীয় অর্ধে বাংলাদেশ দলে তিনটি পরিবর্তন আনা হয়। শমিত সোম, শুকি ইতোফুসা ও শাহরিয়ার ইমনকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয় ফারহান আলী ওয়াহিদ, স্বাধীন ও সোহেল রানাকে। বিরতির পর স্বাগতিকদের আক্রমণের ধার কিছুটা কমলেও ম্যাচের শেষ দিকে আরও চার গোল প্রত্যক্ষ করে দর্শকরা।

​৫৪ মিনিটে ইন্দোনেশীয় স্ট্রাইকারের জোরালো শট ফেরান শ্রাবণ। ৭৬ মিনিটে এলকান বাগটের শক্তিশালী হেডার শ্রাবণের দারুণ দক্ষতায় প্রতিহত হয়। ৭৮ মিনিটে ফারহানের শট সাইড নেটে লাগলে গোলবঞ্চিত হয় বাংলাদেশ। ৮৯ মিনিটে হামজার পাসে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ফারহান; তার শট চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে।

​৯০ মিনিটে লিউকের প্লেসিং শটে ইন্দোনেশিয়া সপ্তম গোল পায় (৭-১)। পর মুহূর্তেই (৯১ মিনিট) রাকিবের ক্রসে দারুণ এক শটে বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় গোল পরিশোধ করেন ফারহান (৭-২)। গোলের পরপরই সাদ উদ্দিন ফাউল করলে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য হাতাহাতি সৃষ্টি হয়, তবে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।

​যোগ করা সময়ে কেবিন ইন্দোনেশিয়ার অষ্টম গোলটি করেন। আর ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে মিসেল বেকার নিজের পঞ্চম গোল পূর্ণ করে বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ৯-২ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইন্দোনেশিয়া।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0