আর্থিক লোকসান ও কাঠামোগত সংস্কার: চলতি বছর হচ্ছে না বিপিএল, নতুন পরিকল্পনায় বিসিবি

২০ আগস্ট ২০২৬ - ১৮:৩৬
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
আর্থিক লোকসান ও কাঠামোগত সংস্কার: চলতি বছর হচ্ছে না বিপিএল, নতুন পরিকল্পনায় বিসিবি
বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবাল। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) আগামী আসর চলতি বছর আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আর্থিক অনিয়ম, বকেয়া সংক্রান্ত জটিলতা ও গত কয়েক আসরের বড় অঙ্কের লোকসান বিবেচনা করে টুর্নামেন্টটি নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চায় না বোর্ড। সার্বিক বিষয় পুনর্গঠন করে আগামী বছর টুর্নামেন্টটি মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করছে কর্তৃপক্ষ।

​বিসিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনায় বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চলতি বছর বিপিএল মাঠে গড়াচ্ছে না এবং বিষয়টি নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোগত ফর্মুলা তৈরিতে কাজ করছে বোর্ড।

​ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নানা আর্থিক দায়বদ্ধতার ঘাটতি ও নিয়ম না মানার কারণে এই টুর্নামেন্ট থেকে বিসিবি বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তামিম ইকবাল জানান, বিপিএলের বিগত দুটি আসর আয়োজন করতে গিয়ে ক্রিকেট বোর্ডের প্রায় ৪০ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। তার মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট থেকে বোর্ডের মুনাফা হওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতি উল্টো দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত লোকসান গুনে তাড়াহুড়ো করে টুর্নামেন্ট করা যৌক্তিক নয়।

​তবে বিপিএল একেবারে বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে স্পষ্ট করেছে বিসিবি। টুর্নামেন্টটিকে দীর্ঘমেয়াদে একটি পেশাদার ও টেকসই রূপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় সময় নেওয়া হচ্ছে। বিসিবি সভাপতি জানান, সঠিক নিয়মে কাজ সম্পন্ন করতে যদি ৬ থেকে ১২ মাস সময়ও লাগে, বোর্ড সেই সময় নেবে।

​ইতিমধ্যে সমস্যাগ্রস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সাথে বিসিবির আলোচনা শুরু হয়েছে। বকেয়া পরিশোধ, ব্যাংক গ্যারান্টি জমা ও অন্যান্য প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে কাজ চলছে। আগামী আসরের আগে যথেষ্ট সময় হাতে রেখে ফ্র্যাঞ্চাইজি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

​ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তামিম ইকবাল জানান, আগামী বছরের এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্ধারণ সংক্রান্ত যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় বিসিবি। তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে হাত সময় রেখে প্রস্তুতি নেওয়া হবে, যাতে কোনো দল সরে দাঁড়ালে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব না হয়। লোকদেখানো আয়োজনের চেয়ে টুর্নামেন্টের সুস্থ পরিবেশ ও বিসিবির মর্যাদা রক্ষা করাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0