ডারউইনে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে প্রথাগত জাঁকজমক দেখছেন না গিলক্রিস্ট
অস্ট্রেলিয়ান টেস্ট ক্রিকেট বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে উত্তেজনা, রোমাঞ্চ আর উৎসবের এক মুখরিত পরিবেশ। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজে তেমন প্রথাগত দৃশ্যপট দেখছেন না অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কিংবদন্তি অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। সিরিজের ভেন্যু ডারউইন অস্ট্রেলিয়ার মূলধারার টেস্ট সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খায় না বলেই এখানকার আবহটা সম্পূর্ণ আলাদা মনে হচ্ছে তাঁর কাছে।
বছরের এই সময়টায় সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গড়ায় না। দেশটির ক্রীড়াঙ্গন বর্তমানে তাদের অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা ‘অস্ট্রেলিয়ান রুলস ফুটবল’ বা ‘ফুটি’ নিয়ে ব্যস্ত। দেড়শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো আগস্ট মাসে ঘরের মাঠে কোনো টেস্ট খেলতে নামছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সিরিজটি ২০২৭ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে টেস্ট ক্রিকেটের দেড়শ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওই সময়ে মেলবোর্নে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি বিশেষ স্মৃতিচারণমূলক টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া। যে কারণে বাংলাদেশের বিপক্ষে এই সিরিজটি সাত মাস এগিয়ে এনে চলতি বছরের আগস্টে আয়োজন করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার মূল ক্রিকেট ভেন্যুগুলো এখন 'ফুটি' খেলার দখলে এবং আবহাওয়াও সেখানে ক্রিকেটবান্ধব নয়। ফলে বিকল্প হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে নর্দান টেরিটরির ক্রান্তীয় শহর ডারউইনকে, যেখানে বর্তমানে আবহাওয়া তুলনামূলক উষ্ণ।
তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আঙিনায় ডারউইন বেশ অপরিচিত। এখন পর্যন্ত সেখানে মাত্র দুটি টেস্ট আয়োজিত হয়েছে—যার প্রথমটি ২০০৩ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষেই খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া, আর দ্বিতীয়টি পরের বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামাধ্যম ফক্সস্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গিলক্রিস্ট জানান, মূল ধারার টেস্ট ক্রিকেট থেকে ডারউইনের পরিবেশ বেশ আলাদা। ঐতিহ্যবাহী গ্রীষ্মকালীন টেস্টের জাঁকজমক ও পরিচিত আমেজ এখানে নেই। তবে এই ভিন্নধর্মী ও সতেজ আবহ অস্ট্রেলিয়া দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে এক ধরণের নতুন রোমাঞ্চ ও উদ্দীপনা তৈরি করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
প্রসংগত, ২৩ বছর আগে ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক টেস্টে মাঠে ছিলেন সাবেক এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। সেবার বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৯৭ রানে অলআউট হলে ৭ উইকেটে ৪০৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে অজিরা। স্টিভ ওয়াহ ও ড্যারেন লিমানের সেঞ্চুরির পাশাপাশি গিলক্রিস্ট খেলেছিলেন ৪৭ বলে ৪৩ রানের এক দ্রুতগতির ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ১৭৮ রানে গুটিয়ে গেলে ইনিংস ও ১৩২ রানের বড় জয় পায় স্বাগতিকরা। এরপর সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল কেয়ার্নসে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











