সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিতে চীনকে টেক্কা দিতে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও জ্বালানি খাতে চীনের আধিপত্য রুখতে এবং মার্কিন অভ্যন্তরীণ শিল্প পুনরুজ্জীবিত করতে একগুচ্ছ নতুন বাণিজ্য নীতি ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই পদক্ষেপের আওতায় সেমিকন্ডাক্টর ও সৌর প্যানেলের মূল কাঁচামাল ‘পলিসিলিকন’ দিয়ে তৈরি পণ্যের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পাশাপাশি সর্বনিম্ন্ন আমদানি মূল্য বা প্রাইজ ফ্লোর নির্ধারণ করেছে হোয়াইট হাউস।
১৯৬২ সালের ট্রেড এক্সপেনশন অ্যাক্টের সেকশন ২৩২-এর অধীনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশে স্বাক্ষর করেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই বাণিজ্য সুরক্ষা নীতিগুলো আগামী ৪ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
ঘোষিত নীতি অনুযায়ী, মূল পলিসিলিকনের সর্বনিম্ন আমদানি মূল্য প্রতি কেজিতে ২১ ডলার, পলিসিলিকন ইনগট ও ওয়াফারের ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ১০০ ডলার, সোলার সেলের ক্ষেত্রে প্রতি ওয়াটে ০.২২ ডলার এবং সমাপ্ত সোলার মডিউল বা প্যানেলের ক্ষেত্রে প্রতি ওয়াটে ০.৩৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া, যারা যুক্তরাষ্ট্রে পলিসিলিকন বা এর সহযোগী উপাদান তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠা করবে, তাদের উৎসাহিত করতে বাণিজ্য বিভাগকে একটি নতুন প্রণোদনা কর্মসূচি গড়ে তোলার এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের আদেশে উল্লেখ করা হয়, এই কর্মপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার চাহিদা মেটাতে দেশীয় পলিসিলিকন ও এর সহযোগী উপাদানের ব্যবসায়িক স্থায়িত্ব এবং উৎপাদন সক্ষমতা নিশ্চিত করা।
পলিসিলিকন হলো সিলিকনের একটি অতি-বিশুদ্ধ রূপ, যা সৌরশক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্প শৃঙ্খলের একদম প্রাথমিক উপাদান। গত এক দশক ধরে আমেরিকান সৌর কারখানাগুলো অভিযোগ করে আসছে যে, চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীরা ভর্তুকি সুবিধা নিয়ে বাজারে সস্তায় পণ্য বিক্রি (ডাম্পিং) করছে এবং শুল্ক এড়াতে অন্যান্য দেশে কারখানা স্থানান্তরিত করছে।
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কেবল দুটি পলিসিলিকন কারখানা চালু রয়েছে—একটি মিশিগানে 'হেমলক সেমিকন্ডাক্টর' (কর্নিং ও জাপানের শিন-এতসু হ্যান্ডোটাই-এর যৌথ উদ্যোগ) এবং অন্যটি টেনেসিতে জার্মানির 'ওয়াকার কেমি' চালিত কারখানা। কর্নিং-এর একজন মুখপাত্র এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এটি আমেরিকান প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়াতে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। ওয়াকার কেমিও এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাবের প্রশংসা করেছে।
এছাড়া টিওয়ান এনার্জি (T1 Energy), ফার্স্ট সোলার এবং কিউসেলসের (Qcells) মতো স্থানীয় উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে মার্কিন অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য একটি যুগান্তকারী জয় হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে, বাণিজ্য আইনজীবী টিম ব্রাইটবিল সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, নীতি কার্যকর হতে চার মাসের বিলম্বের সুযোগে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে প্রচুর পরিমাণ বিদেশী পণ্য আমদানির ঢল নামতে পারে।
সুত্র: রয়টার্স।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











