বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক ও দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ বাড়াতে ব্রিটিশ এমপিদের ভূমিকার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার অর্থনৈতিক ও সংসদীয় সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে কাজ করার জন্য সফররত ব্রিটিশ আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর ২০২৬) সকালে বঙ্গভবনে বাংলাদেশবিষয়ক যুক্তরাজ্যের অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি এই আহ্বান ব্যক্ত করেন।
বঙ্গভবনে সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
যুক্তরাজ্যের এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি এবং এপিপিজির চেয়ার আফসানা বেগম। প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে যুক্ত ছিলেন এমপি শওকত আদম এবং হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড কুরবান হোসাইন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। দেশটিকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার, গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার ও অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের সুদীর্ঘ গণতান্ত্রিক ইতিহাস এবং সুশাসনের চর্চার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি দুই দেশের মধ্যকার প্রশাসনিক ও সংসদীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উভয় দেশের সংসদীয় কমিটির অভিজ্ঞতা বিনিময়, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ এবং পারস্পরিক সফরের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সংসদীয় বন্ধুত্ব গ্রুপ’ গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গণতান্ত্রিক ধারা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন
বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান আফসানা বেগম। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন-সংগ্রামে রাষ্ট্রপতির দীর্ঘ ত্যাগ ও সহনশীলতার প্রশংসা করেন তিনি।
অন্যদিকে, প্রতিনিধিদলকে বঙ্গভবনে স্বাগত জানিয়ে রাষ্ট্রপতি স্মরণ করেন যে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের অবদান এ দেশের মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রতিনিধিদল ২০২৬ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রশংসা করেন। জবাবে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, এ নির্বাচন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সার্বিক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।
রাষ্ট্রপতি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুসরণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গুরুত্বপূর্ণ এই সৌজন্য বৈঠকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব এবং প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











