রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ২টি সেনাক্যাম্প স্থাপন ও জঙ্গল সলিমপুরে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত

০৮ অক্টোবর ২০২৬ - ১৬:৪১
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় ২টি সেনাক্যাম্প স্থাপন ও জঙ্গল সলিমপুরে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত
ছবি সংগৃহীত

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চলে অপরাধ দমনে দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপন এবং চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে একটি নতুন পুলিশ একাডেমি ও কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে কাঁটাতারের বেড়া সংস্কার, সিসিটিভি ক্যামেরা ও সৌরবিদ্যুৎচালিত আলো বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

​রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সেনাক্যাম্প ও নতুন ব্যবস্থা

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধের প্রাদুর্ভাব রোধে সেনাক্যাম্প স্থাপনের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্প দুটি রামু সেনানিবাসের ১০ পদাতিক ডিভিশনের পরিচালনায় থাকবে। সেনাক্যাম্পের স্থায়ী উপস্থিতি এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

​ক্যাম্পগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা তদারকিতে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রায় ৪০০ জন সাব-ইন্সপেক্টর পর্যায়ের কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তের আইনি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পের অভ্যন্তরে যেকোনো সংঘাতময় বা জরুরি পরিস্থিতিতে যৌথ অভিযান চালুর পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার সংকট মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনার জন্য এসওপি (SOP) নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে রোহিঙ্গা অপরাধীদের জন্য আলাদা কোনো কারাগার স্থাপনের উদ্যোগ এই মুহূর্তে সরকারের নেই বলে তিনি জানান।

​জঙ্গল সলিমপুরে সুশাসন ও পুনর্বাসন

একই দিনে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা নিয়ে অনুষ্ঠিত পৃথক সভায় এলাকাটিকে সন্ত্রাসমুক্ত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাজশাহীর সারদার আদলে সেখানে একটি পুলিশ একাডেমি নির্মাণের জায়গা নির্ধারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের উদ্দেশ্যে লিংক রোড সংলগ্ন এলাকায় ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

​তিনি আরও জানান, সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) মাধ্যমে এলাকায় সড়ক নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে। জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বসতিগুলোর অধিবাসীদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা রয়েছে এবং সেখানে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও এপিবিএনের জন্য স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হবে।

​পুলিশের প্রতি জনআস্থা

পুলিশের কার্যকারিতা ও সাধারণ মানুষের ট্রাস্ট বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জনগণের অর্জিত আস্থা ধরে রাখা এবং তা আরও বাড়িয়ে তোলাই এখন পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। সীমান্ত ও ক্যাম্প ব্যবস্থাপনার মতো প্রতিটি স্পর্শকাতর জায়গায় শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের এ বহুমুখী প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0