পাকিস্তানে বিদ্যুৎ ঘাটতি ৪ হাজার মেগাওয়াট ছাড়াল
পাকিস্তানে বিদ্যুৎ সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাওয়ায় দেশজুড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক লোডশেডিং ছড়িয়ে পড়েছে। তীব্র গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম সীমায় পৌঁছেছে এবং স্থবির হয়ে পড়ছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কর্মসংস্থান। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাতে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
উৎপাদন হ্রাসে বিপাকে জাতীয় গ্রিড
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যুতের চাহিদা ও পাওয়ার গ্রিডে সরবরাহের মধ্যে ব্যাপক ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। মূলত জ্বালানি সংকটের কারণে একাধিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ বা সীমিত রাখতে হচ্ছে। ডিজেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় কেন্দ্রগুলো পুরো সক্ষমতায় চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এর পাশাপাশি জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়াকে পরিস্থিতি অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
লাহোরে এক ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ বিপর্যয়
দেশটির প্রধান শহরগুলোর মধ্যে পাঞ্জাবের রাজধানী লাহোরের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। লাহোর ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (এলইএসসিও) নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে বিদ্যুতের ঘাটতি ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ রয়েছে মাত্র ৩ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি।
সরবরাহে এমন বড় ঘাটতির কারণে নির্ধারিত সময়সূচি ভেঙে অনির্ধারিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। কিছু এলাকায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেওয়ার পর টানা এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে আবাসিক এলাকার পাশাপাশি দোকানপাট, ছোট-বড় শিল্পকারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র ক্ষতির মুখে পড়ছে।
আরও লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা
বিদ্যুৎ খাতের সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ বাড়িয়ে উৎপাদন স্বাভাবিক করা না গেলে আগামী দিনগুলোতে সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। গরমের মৌসুমে এ ধরনের দীর্ঘ লোডশেডিং সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত করার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











