জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস আজ: ই-সিগারেট ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধের দাবি
তামাক ব্যবহারের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং তামাকমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সারাদেশে পালিত হচ্ছে জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস। এ বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘ই-সিগারেট/ভ্যাপ ও নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধ করুন, শিশু-তরুণদের রক্ষা করুন।’
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ৮ অক্টোবর দেশজুড়ে জাতীয় তামাকমুক্ত দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়ে আসছে। দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা, সেমিনার, মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচিসহ নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, দেশে বর্তমানে ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক ব্যাধির চিকিৎসায় হাসপাতালগুলোর ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে; এমনকি প্রায় সাত হাজার ক্যানসার রোগীর কেমোথেরাপির সিরিয়াল ২০২৮ সাল পর্যন্ত অপেক্ষমাণ তালিকায় ঠেকেছে। এই বাস্তবতায় তরুণ ও নতুন প্রজন্মকে নিকোটিনের আসক্তি থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এ ই-সিগারেট, ভ্যাপ এবং নিকোটিন পণ্য নিষিদ্ধের আইনি প্রস্তাব রাখা হলেও পরবর্তীতে আইন সংশোধনের সময় তা বাদ দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে দেশে ই-সিগারেট ব্যবহারকারীর হার ছিল ০.২ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে এসে তরুণ ধূমপায়ীদের মধ্যে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭.৪২ শতাংশে।
আন্তর্জাতিক দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বাটা জানায়, ইংল্যান্ডে ২০২৬ সালে প্রণীত নতুন আইন অনুযায়ী ১ জানুয়ারি ২০০৯ বা তার পর জন্মগ্রহণকারী যেকোনো ব্যক্তির কাছে তামাকপণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা ২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হবে। তবে বাংলাদেশে বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলোকে সুযোগ দেওয়ার কারণে নতুন ধরনের ক্ষতিকর নিকোটিন পণ্যের বাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও নতুন প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে অবিলম্বে ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট নিষিদ্ধ করে শক্তিশালী আইন প্রণয়নের জোর দাবি জানিয়েছে বাটা।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











