২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন

০৮ অক্টোবর ২০২৬ - ১৭:২৭
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন কানাডার লেখক অ্যান কারসন
ছবি সংগৃহীত

২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন কানাডার খ্যাতিমান কবি ও প্রাবন্ধিক অ্যান কারসন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সুইডিশ একাডেমি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব সাহিত্যের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারের জন্য তার নাম ঘোষণা করে।

​পুরস্কার প্রদানকারী কমিটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাচীন গ্রিক ঐতিহ্য ও শাস্ত্রীয় রূপকে আধুনিক সাহিত্য ভাবনার সঙ্গে দারুণ এক সমীকরণে মিলিয়ে সমকালীন সাহিত্যে নতুন পথ তৈরির সাহসিকতা ও উদ্ভাবনী প্রয়াসের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। এই পুরস্কারের অংশ হিসেবে তিনি সম্মাননা স্মারকের পাশাপাশি ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলার) অর্থ মূল্য পাবেন।

​অনন্য সাহিত্যশৈলী ও সৃজনশীল কাজ

​অ্যান কারসনের লেখার মূল বৈশিষ্ট্য হলো তিনি খুব সহজেই কবিতা, গদ্য, নাট্য-সংলাপ ও অনুবাদের সীমানা ভেঙে সেগুলোকে একই সূত্রে গেঁথে ফেলেন। ক্লাসিক্যাল গ্রিক সাহিত্য তার সাহিত্যভাবনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে, যা তার কাজকে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা। কবিতা ও অনুবাদের পাশাপাশি অপেরার গীতিনাট্য এবং সাহিত্য সমালোচনায়ও তার স্বতন্ত্র পরিচয় রয়েছে। ১৯৯৮ সালে প্রকাশিত ‘অটোবায়োগ্রাফি অব রেড’ কাব্যগ্রন্থটি তার অনন্য সৃষ্টিশীলতার অন্যতম উদাহরণ। এছাড়া ২০১৯ সালে উপস্থাপিত ‘নর্মা জিন বেকার অব ট্রয়’ নাট্যপরিবেশনায় তিনি ইউরিপিদিসের হেলেন চরিত্রটির সঙ্গে হলিউড তারকা মেরিলিন মনরোর জীবনকে একসূত্রে যুক্ত করে প্রশংসা কুড়ান।

​নোবেলের ইতিহাস ও বিতর্ক

​এই জয়ের মাধ্যমে আলেকজান্ডার সলঝেনিৎসিন, অ্যালিস মানরো এবং আর্নেস্ট হেমিংওয়ের মতো বিশ্বখ্যাত সাহিত্যিকদের সারিতে যুক্ত হলো কারসনের নাম।

​তবে সাহিত্যে নোবেল প্রদান নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ে লিও টলস্টয়, ভার্জিনিয়া উলফ বা হোর্হে লুইস বোর্হেসের মতো প্রাতঃস্মরণীয় লেখকদের পুরস্কার না দেওয়া এবং মার্কিন সাহিত্যিকদের উপেক্ষার অভিযোগ প্রায়ই উঠেছে সুইডিশ একাডেমির বিরুদ্ধে। তবে ২০১৬ সালে মার্কিন সংগীতস্রষ্টা বব ডিলানকে সাহিত্যে নোবেল দিয়ে সেই সমালোচনার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অন্যদিকে ১৯৮২ সালে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস কিংবা ২০০৭ সালে ডরিস লেসিংকে বিজয়ী করার উদাহরণ টেনে একাডেমির সমর্থকরা মনে করেন, মূলধারার বাইরে থাকা মানসম্পন্ন সাহিত্যরীতি ও কম পরিচিত লেখকদের বিশ্বমঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেওয়াও এই পুরস্কারের অন্যতম উদ্দেশ্য।

​উল্লেখ্য, ১৯০১ সালে সুইডিশ উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছাপত্র অনুযায়ী এই পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালে হাঙ্গেরির বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই সাহিত্যে নোবেল অর্জন করেছিলেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0