অমুক্তিযোদ্ধা বাদ দিতে নির্মোহ যাচাই করা হবে: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে কোনো ভুল তথ্য কিংবা কলঙ্ক রাখতে চায় না সরকার। তাই দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ ও বীরাঙ্গনাদের তালিকা নির্মোহভাবে যাচাই-বাছাই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
বুধবার (৭ অক্টোবর) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ ও বীরাঙ্গনাদের প্রকৃত তালিকা প্রণয়নের কৌশল ও করণীয় নির্ধারণী মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকেই মন্ত্রণালয় নানা কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে হাজার হাজার অমুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং শহীদ ও বীরাঙ্গনাদের তালিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক তৈরি হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এই বিতর্কের অবসান ঘটাতেই শুরু হয়েছে কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া।
নতুন আবেদন গ্রহণের সুযোগ বন্ধ
তালিকা থেকে অমুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর নতুন করে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আবেদন করার আর সুযোগ নেই। ৭ অক্টোবরের পর থেকে নতুন কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
ইতিমধ্যে যেসব আবেদন জমা রয়েছে, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী কমিটি, সরেজমিন তদন্ত ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তা চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে। এর মাধ্যমে কেবল অতীতে বাদ পড়া প্রকৃত বীরদেরই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকবে।
নির্ভুল ইতিহাসের দিকে যাত্রা
অতীতে অমুক্তিযোদ্ধাদের সনদ দেওয়ার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, তা আর চলতে দেওয়া হবে না বলে উল্লেখ করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি সঠিক ইতিহাস প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই কাজ চলছে। তবে কাজের পরিধি বড় হওয়ায় শতভাগ নির্ভুল তালিকা প্রকাশে ঠিক কত দিন সময় লাগবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত বীর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দুই লাখ তিন হাজারের কিছু বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











