১ ডিসেম্বর থেকে দেশজুড়ে বছরব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা ক্যাম্পেইন, ১৭ রেডিওলজি মেশিন ক্রয়ের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

০৭ অক্টোবর ২০২৬ - ১৬:৩৯
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
১ ডিসেম্বর থেকে দেশজুড়ে বছরব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা ক্যাম্পেইন, ১৭ রেডিওলজি মেশিন ক্রয়ের নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
ছবি সংগৃহীত

দেশের পরিবার পরিকল্পনা খাতকে আরও বেগবান ও শক্তিশালী করতে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে বছরব্যাপী ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই নতুন কর্মসূচির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বকুল।

​স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কর্মসূচির প্রথম এক মাসে র‍্যালি, মেলা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এটি শুধু আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষের দোড়গোড়ায় প্রয়োজনীয় পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে।

​ঘরে ঘরে পৌঁছাবে পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী

প্রচারাভিযানের মূল রূপরেখা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দুটির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো’—এই জাতীয় স্লোগানকে সামনে রেখে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হবে। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিকল্পনা তৈরি করছেন। শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়েই নয়, দেশের জেলা ও প্রান্তিক পর্যায়েও সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে বহুমুখী কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।

​সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বকুল জোর দিয়ে বলেন, “আমরা কেবল মুখের কথাতেই সীমাবদ্ধ থাকব না, সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব উপকরণ সরবরাহ করব। ট্যাবলেট, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী (কন্ট্রাসেপটিভস) ও প্যাডসহ পরিবার পরিকল্পনার যাবতীয় প্রয়োজনীয় মেটেরিয়াল সরাসরি প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

​সরকারি তহবিল ব্যয়ের আইনি ও প্রশাসনিক বিধিবিধান অনুসরণের কারণে কিছু প্রক্রিয়াগত সময় লাগে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক কাজ আটকে থাকলেও বর্তমানে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু হয়েছে। আগামী বছরের শুরু থেকেই এসব উদ্যোগের দৃশ্যমান পরিবর্তন পরিলক্ষিত হবে। স্বাস্থ্য খাতের অন্যতম দুর্বল জায়গা হিসেবে পরিবার পরিকল্পনা খাতকে চিহ্নিত করে মন্ত্রী স্বীকার করেন, বিগত সময়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় জনসংখ্যা ও জন্মহার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বাধা তৈরি হয়েছিল।

​ক্যান্সার চিকিৎসায় ১৭টি রেডিওলজি যন্ত্র কেনা হচ্ছে

সংবাদ সম্মেলনে দেশের ক্যান্সার চিকিৎসার নাজুক পরিস্থিতি তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, অথচ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য এই জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম অকেজো থাকায় বহু রোগী সময়মতো চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে ৮টি পূর্ণাঙ্গ সেটের কেমোথেরাপি মেশিন বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে।

​এই সংকট উত্তরণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ক্যান্সার চিকিৎসাসেবা জোরদারে ১৭টি রেডিওলজি যন্ত্রপাতি কেনাকাটার প্রক্রিয়া চলছে। ক্যান্সার রোগীর প্রারম্ভিক পর্যায়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অনেকের জীবন বাঁচানো সম্ভব। কিন্তু অর্থাভাব ও যন্ত্রপাতির ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষকে কঠিন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সরকার এই সংকট কাটিয়ে উঠতে নিরলস কাজ করছে এবং আগামীতে স্বাস্থ্য পরিষেবায় ইতিবাচক রূপান্তর দেখা যাবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0