আশ্বিনের মাঝামাঝি দেশে ৪ দিন বৃষ্টির সম্ভাবনা, নদ-নদীর পানি পরিস্থিতির আপডেট
আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি এসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ফের বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী চার দিন ছয় থেকে আটটি বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোনো কোনো এলাকায় বৃষ্টির সঙ্গে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া বইতে পারে। এ সময়ে দেশের কিছু জায়গায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের ওপর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বর্তমানে কম সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরেও এর প্রভাব রয়েছে দুর্বল থেকে মাঝারি ধরনের। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নিতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানিয়েছেন, সোমবার দিনের বেলা তাপমাত্রা স্বাভাবিক ও প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী দুই দিন রাজধানী ঢাকায় বৃষ্টির আশঙ্কা অত্যন্ত কম। যদি বৃষ্টি হয়ও, তবে তা হবে খুবই নামমাত্র বা হালকা।
দিনভিত্তিক আবহাওয়া পরিস্থিতি
বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়ার বিস্তারিত সময়সূচি তুলে ধরা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকা, রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক স্থানে ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। এ দিনে সারা দেশেই দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা নামতে পারে।
মঙ্গলবার ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ দিন তাপমাত্রার তেমন কোনো রদবদল হবে না। বুধবার রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে, যেখানে দিনের তাপমাত্রা আবার সামান্য কমবে। আর বৃহস্পতিবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট—এই সাতটি বিভাগের বিভিন্ন জায়গায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বাকি অঞ্চলগুলোতে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও সার্বিক আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
নদ-নদীর পানি ও বন্যা পরিস্থিতির চিত্র
এদিকে বৃষ্টির পাশাপাশি দেশের বেশ কয়েকটি বড় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। রবিবারের পরিস্থিতি প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, আগামী তিন দিন দেশের ভেতরে এবং এর সংলগ্ন উজান এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে নদীগুলোর পানি সমতলে পরিবর্তন আসবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিগত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গা ও পদ্মা নদীর পানি বেড়েছে। গঙ্গা নদীর পানি পরবর্তী দুই দিন বৃদ্ধি পেয়ে পরবর্তী তিন দিন কমতে শুরু করতে পারে। অন্যদিকে পদ্মা নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতেও ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে, যা আগামী এক দিন বাড়ার পর টানা দুই দিন কমতে পারে।
তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীতে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় এ অঞ্চলের পানি কমেছে এবং আগামী দুই দিন তা আরও কমতে পারে। এরপর পরবর্তী তিন দিন পানি স্থির থাকার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রধান সব নদ-নদীর পানিই বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











