কিম জং উনের উপস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ায় নতুন হাইপারসনিক মিসাইলের সফল পরীক্ষা

০৪ অক্টোবর ২০২৬ - ১৭:৩৪
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
কিম জং উনের উপস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ায় নতুন হাইপারসনিক মিসাইলের সফল পরীক্ষা
ছবি: সংগৃহীত

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দেশটির কৌশলগত সামরিক বহরে যুক্ত হওয়া নতুন একটি মধ্যম পাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। মূলত দেশের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করতেই এই আধুনিক সামরিক মহড়ার আয়োজন করা হয়।

​১,০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত

​উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) দেশের পূর্বাঞ্চলীয় একটি ক্ষেত্র থেকে কৌশলগত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি নির্ধারিত গতিপথে চালিত হয়ে পূর্ব উপকূলের প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানে। দেশের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা এবং জাতীয় ডেটারেন্ট ফোর্সের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করাই ছিল এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

​পরীক্ষা পর্যবেক্ষণকালে কিম জং উন জানান, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং প্রতিপক্ষকে উত্তর কোরিয়ার আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে সতর্ক রাখতে এই ধরনের মহড়া নিয়মিত পরিচালনা করা আবশ্যক। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পরমাণু যুদ্ধ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদারের নীতিতে পিয়ংইয়ং অটল থাকবে বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

​আঞ্চলিক উত্তেজনা ও ট্র্যাকিং বিতর্ক

​চলতি বছর উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষার অংশ হিসেবেই এই সাম্প্রতিক উৎক্ষেপণটি ঘটেছে। বিশেষ করে গত মাসে ডেমিলিটারাইজড জোনে (ডিএমজেড) ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাসদস্য আহত হওয়ার পর কোরীয় উপদ্বীপে যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, সেই পটভূমিতে এই মহড়া সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

​এদিকে এই উৎক্ষেপণের পর ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ চিহ্নিত করা নিয়ে সিউল ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে তথ্যগত বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। কিম জং উনের বোন ও শাসক দলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কিম ইয়ো জং দাবি করেছেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এই ক্ষেপণাস্ত্রের গতিবিধি নজরদারি করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা ফুটিয়ে তোলে।

​তবে সিউলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের প্রথম মুহূর্ত থেকেই ক্ষেপণাস্ত্রটির গতিপথ নিখুঁতভাবে ট্র্যাক করা সম্ভব হয়েছে এবং যেকোনো সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় তাদের পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়া বার্তা দিচ্ছে যে তাদের দূরপাল্লার আধুনিক মিসাইলগুলো এখন আর শুধু পরীক্ষামূলক পর্যায়ে নেই, বরং সরাসরি ব্যবহার উপযোগী মোডে উন্নীত হয়েছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0