২০ জেলায় সমন্বিত মেডিকেল অক্সিজেন নেটওয়ার্ক গড়বে সরকার
দেশের স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা ও পরিধি বাড়াতে চলতি অর্থবছরে অন্তত ২০টি জেলায় সমন্বিত মেডিকেল অক্সিজেন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার অগ্রগতি মূল্যায়নে ‘অক্সিজেন অ্যাকসেস স্কোরকার্ড’ অর্জনের বিষয়টিতেও বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
রোববার (৪ অক্টোবর ২০২৬) রাজধানীর ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে (আইইউবি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ অক্সিজেন সামিট’-এর সমাপনী ও উচ্চপর্যায়ের নীতি সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। আইইউবির সেন্টার ফর হেলথ, ইমপ্লিমেন্টেশন অ্যান্ড পলিসি সায়েন্সেস (সিএইচআইপিএস) এবং বাংলাদেশ অক্সিজেন নেটওয়ার্ক যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারির অভিজ্ঞতা এবং ২০২৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) রেজল্যুশনের পর মেডিকেল অক্সিজেনকে কেবল তাৎক্ষণিক চিকিৎসা-চাহিদা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি এখন দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যনিরাপত্তার অন্যতম মৌলিক উপাদান। বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি দৃশ্যমান করতে চিকিৎসা খাতের অক্সিজেন ব্যবস্থাপনাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ চলছে।
অক্সিজেন খাতে সমন্বয়হীনতা দূর করার পদক্ষেপ
অতীতে দেশের অক্সিজেন ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকতার অভাব ছিল উল্লেখ করে ড. মুহিত বলেন, পূর্বে দেখা গেছে একই ধরনের উদ্যোগ বারবার নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় অনেক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকত। বর্তমান সরকার এ জটিলতা দূর করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং প্রকল্প উন্নয়ন প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরির কাজ এগোচ্ছে। এর অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২০টি জেলায় সমন্বিত অক্সিজেন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে।
দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ ও প্রশিক্ষণ
স্বাস্থ্য খাতের টেকসই উন্নয়নে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত মেয়াদকে সামনে রেখে একটি ‘ন্যাশনাল অক্সিজেন রোডম্যাপ’ প্রণয়নের জোর তাগিদ দেন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি স্বাস্থ্যে দেশীয় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। চিকিৎসা শিক্ষায় অক্সিজেন থেরাপির ব্যবহারিক ও পদ্ধতিগত প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করতে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) ও নার্সিং কাউন্সিলকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা
প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, নারী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চিকিৎসায় নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সেবার সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন ও মানদণ্ড নির্ধারণ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, কেবল বাতি লাগিয়ে যেকোনো গাড়িকে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে চালানোর প্রবণতা বন্ধ করা হবে। আধুনিক ও মানসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর লক্ষ্যে আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে প্রতিটি বাহনে কার্যকর অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











