স্থায়ী ঠিকানা না থাকা মিশন আচার্য অবশেষে পাচ্ছেন শিক্ষকতার নিয়োগপত্র

০৪ অক্টোবর ২০২৬ - ১৬:০৮
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
স্থায়ী ঠিকানা না থাকা মিশন আচার্য অবশেষে পাচ্ছেন শিক্ষকতার নিয়োগপত্র
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় নিয়োগ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল ঝিনাইদহের মিশন আচার্যের। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও জটিলতা শেষে অবশেষে কাটল সেই বাধা। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের হস্তক্ষেপে তাঁর নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁনের সঙ্গে মিশন আচার্য শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এর পরেই তাঁর নিয়োগের সবুজসংকেত পাওয়া যায়।

​সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মো. রাশেদ খাঁন নিশ্চিত করেন যে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের সফর সমাপ্ত করে মিশনকে সাথে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে যাওয়া হয়। সার্বিক বিষয়টি অনুধাবন করে শিক্ষামন্ত্রী দ্রুত সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁর নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে কার্যকর নির্দেশ দেন।

​মানবিক বিবেচনায় আবেদন

এর আগে মিশন আচার্যের নিয়োগের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে চিঠি দেন মো. রাশেদ খাঁন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কলাবাগান এলাকায় জন্মলগ্ন থেকেই বসবাস করছেন মিশন। বাবার অনুপস্থিতিতে মায়ের চরম কষ্টে তিনি বেড়ে ওঠেন এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ থেকে সাফল্যের সঙ্গে পড়াশোনা শেষ করেন। এরপর ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৫’-এ অংশ নিয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা থেকে মেধা তালিকায় ১৭তম স্থান লাভ করেন।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় সহকারী শিক্ষক পদে মোট ১৮২ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১৮০ জন চূড়ান্ত নিয়োগপত্র পেলেও মামলাজনিত কারণে একজন এবং স্থায়ী বসতভিটা না থাকায় মিশনের নিয়োগ স্থগিত রাখা হয়েছিল। প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, স্থায়ী বসতভিটার প্রমাণপত্র না পাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে নিয়োগপত্র দেওয়া সম্ভব হয়নি।

​জন্ম থেকেই মায়ের সাথে কলাবাগান এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসা মিশন আচার্যের কোনো নিজস্ব জমি বা বাড়ি নেই। সরকারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের পর এখন শুধু চূড়ান্ত নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0