বিশ্বজুড়ে ৮০০ মার্কিন সামরিক ঘাঁটির প্রয়োজন নেই: আইআরজিসি
বিশ্বজুড়ে আমেরিকার প্রায় আটশ সামরিক ঘাঁটির কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি। একই সঙ্গে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের মধ্যে সরাসরি তথ্য বিনিময়ের সুযোগ তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্যানুসারে, মঙ্গলবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াশিংটনের প্রতি এ অবস্থান তুলে ধরেন মোহেবি। মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইরানের মূল পরিস্থিতি সম্পর্কে অধিকাংশ আমেরিকানই অবগত নন। ফলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের একটি নিরপেক্ষ মাধ্যম গড়ে তোলা প্রয়োজন।
প্রতিরক্ষা বাজেট ও অভ্যন্তরীণ সংকট
সংবাদ সম্মেলনে দুই দেশের সামরিক বাজেটের তুলনা টেনে আইআরজিসি মুখপাত্র জানান, তাদের বার্ষিক প্রতিরক্ষা বরাদ্দ যুক্তরাষ্ট্রের মোট সামরিক বাজেটের মাত্র ১ শতাংশ। মার্কিন প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, ওয়াশিংটনের শাসকেরা সাধারণ জনগণের কল্যাণে উদাসীন। নিজের দেশের প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করলেও মার্কিন সরকার সেদিকে মনোযোগ দিচ্ছে না।
পারমাণবিক কর্মসূচি ও বৈশ্বিক নীতি
ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি এবং ভবিষ্যতেও এই অবস্থানে অনড় থাকবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেন মোহেবি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আইআরজিসিকে কেন যুক্তরাষ্ট্র ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন শোষণ প্রতিরোধ করার কারণেই তাদের ওপর এই তকমা দেওয়া হয়েছে।
ইরাকসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পরিচালিত হামলায় হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ের মতো অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্কিন জনসাধারণ এসব সত্য জানতে পারছে না। আগ্রাসনে ব্যয় করা অর্থের মাত্র ১০ শতাংশও যদি যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্যপীড়িত দেশগুলোর সহায়তায় খরচ করত, তবে তারা ইতিবাচক ভাবমূর্তি অর্জন করতে পারত।
ভূ-রাজনৈতিক লক্ষ্য ও মার্কিন অবস্থান
ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের বৈরী নীতির মূল উদ্দেশ্য পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, বরং ইরানের ভূখণ্ড বিভক্ত করা এবং সম্পদ হস্তগত করা বলে দাবি করেন মোহেবি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আমেরিকার নির্বাচনকে প্রভাবিত করা তাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং প্রকৃত সত্য উন্মোচন করাই তাদের মূল লক্ষ্য। পরিশেষে, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











