মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরও ইরানের ৩০ গন্তব্যে উড়ছে বিমান
ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে সম্প্রতি দেশটির বিমান চলাচল খাতের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের এই সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও ইরানের আকাশপথ পুরোপুরি স্তব্ধ হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আরব নিউজ’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ওয়াশিংটনের জারি করা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশ্বের ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে এখনো বিমান চলাচল অব্যাহত রয়েছে। যদিও কঠোর বিধিনিষেধের কারণে সার্বিক ফ্লাইট সংখ্যা অনেক কমে গেছে, তবুও চীন, রাশিয়া ও পাকিস্তানের মতো মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে আকাশপথে সংযোগ বজায় রেখেছে ইরান।
কঠোর হুঁশিয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ইরানের পুরো এভিয়েশন খাতের ওপর সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা জারি করে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সে সময় মন্তব্য করেন, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো ইরানকে ‘অর্থনৈতিকভাবে শ্বাসরুদ্ধ’ করে ফেলা। নতুন এই নিয়ম মেনে চলার জন্য বিদেশি বিমান সংস্থা ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল ওয়াশিংটন।
পরবর্তী সময়ে স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানান, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ইরানি বিমানসংস্থার সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “কোনো ইরানি বিমান কোথাও অবতরণ করলে সেটিকে জ্বালানি দেওয়া যাবে না, গ্রাউন্ড সার্ভিস দেওয়া যাবে না এবং টিকিট বিক্রি করা যাবে না। অন্যথায় ওই প্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ডলারভিত্তিক আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বাদ দেওয়া হবে।”
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আদালতে ইরান
যুক্তযুদ্ধের এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও একতরফা আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে তেহরান। একই সঙ্গে তেহরানের দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখেও রাজধানী থেকে ৩০টির বেশি আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা সচল রাখা সম্ভব হয়েছে।
ফ্লাইট সংখ্যা নেমেছে অর্ধেকে
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্যানুযায়ী, গত রোববার তেহরান বিমানবন্দর থেকে আকাশে উড্ডয়ন ও অবতরণ মিলে মোট ৪১টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। যেখানে নিষেধাজ্ঞা চালুর আগের দুদিন প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০টি ফ্লাইট ওঠা-নামা করেছিল। অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর তেহরানের ফ্লাইট সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমানসংস্থা ‘ইরান এয়ার’ এবং শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি সংস্থা ‘মাহান এয়ার’ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত রোববার তেহরান থেকে ছেড়ে যাওয়া ২৪টি বহির্গামী ফ্লাইটের মধ্যে মাহান এয়ার পরিচালনা করেছে ৫টি এবং ইরান এয়ার চালুর রাখতে পেরেছে মাত্র ২টি। উল্লেখ্য, এই সংকটের আগে প্রতিদিন দুটি বিমান সংস্থাই গড়ে অন্তত ১০টি করে ফ্লাইট পরিচালনা করত।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট দাবি করেছিলেন, আমেরিকার পদক্ষেপের ফলে ইরানের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে। তবে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরান বিমানবন্দরের পরিচালক এই দাবি খণ্ডন করে জানান, এখনো ৩০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে ফ্লাইট যাতায়াত করছে।
বিভিন্ন দেশের অবস্থান
আমেরিকার এই একপেশে পদক্ষেপকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে চীন। চীনা বিমানবন্দরগুলোতে এখনো আগের মতোই মাহান এয়ারের ফ্লাইট চালু রয়েছে। এ ছাড়া রাশিয়া ও পাকিস্তানও ইরানের ফ্লাইট চলাচল সচল রেখেছে, যদিও বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি দেশ দুটি।
অন্যদিকে, তুরস্ক কর্তৃপক্ষের অনুরোধে দেশটিতে মাহান এয়ার তাদের ফ্লাইট বন্ধ রাখতে বাধ্য হলেও রাষ্ট্রীয় ‘ইরান এয়ার’ এখনো ইস্তাম্বুলে প্রতিদিন নিয়মিত ফ্লাইট চালনা করছে। পাশাপাশি ইরানের কয়েকটি ছোট এয়ারলাইন্স তুরস্কের অন্যান্য বিমানবন্দরসহ আর্মেনিয়া, আফগানিস্তান, বেলারুশ ও মালয়েশিয়ায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞা না মানা এসব দেশের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ইরানি যাত্রীদের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট কেন্দ্র সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের ভূখণ্ড থেকে ইরানের সব ফ্লাইট স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











