আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত উৎপাদন খাত: ইরানে শীতকালীন জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা
সামরিক হামলায় দেশের মূল জ্বালানি উৎপাদন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আসন্ন শীত মৌসুমে তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হতে পারে ইরান। বিশেষ করে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় সাধারণ নাগরিকদের সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান প্রশাসন।
উৎপাদন সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইরিন’-এর সূত্রে জানা যায়, সরকার কর্তৃক পরিচালিত এক ব্রিফিংয়ে তেহরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের জ্বালানি খাতের প্রায় ২৩ কোটি ঘনমিটার উৎপাদন সক্ষমতা নষ্ট হয়েছে। তবে এই আকস্মিক ক্ষতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে প্রায় ১০ কোটি ঘনমিটার উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
সংকট মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগ
মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জ্বালানি খাতের ঘাটতি সামাল দিতে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ জনগণের সহযোগিতায় গত শীত ও গ্রীষ্ম মৌসুম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলেও নতুন করে হামলায় সার্বিক ব্যবস্থাপনা জটিল হয়ে পড়েছে।
উত্তরাঞ্চলের জন্য বিশেষ সতর্কতা
বিগত বছরগুলোর ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ও পরিস্থিতির ভিত্তিতে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার জোরালো আশঙ্কা রয়েছে। তাই সম্ভাব্য অচলাবস্থা এড়াতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার গভর্নরদের আগাম প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এর পাশাপাশি ‘সুপ্রিম এনার্জি কাউন্সিল’ শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বজায় রাখা এবং সাধারণ বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে কাজ শুরু করেছে। প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ভোগান্তি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রেখে শীতকাল অতিক্রম করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে ইরান সরকার।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











