ইরাক ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী: মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে ইরানের প্রভাব ও নিরাপত্তাশঙ্কা
দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে চলা সামরিক উপস্থিতি শেষে ইরাক থেকে তাদের শেষ ঘাঁটিগুলো গুটিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে দেশটিতে আমেরিকান সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। দীর্ঘ এই সামরিক অবস্থানকালে সাড়ে চার হাজারের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
২০২৪ সালে তৎকালীন বাইডেন প্রশাসনের মেয়াদে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়ন করছে। তবে এই প্রত্যাহার এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন ওই অঞ্চলে তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সংঘাতমূলক পরিস্থিতি বিদ্যমান। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন বাহিনীর এই প্রস্থান বাগদাদে ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের কৌশলগত অবস্থানকে অত্যন্ত শক্তিশালী করে তুলবে।
ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’-এর শীর্ষ কমান্ডার আবু মোজতবা আল-ইয়াসিরি এই পদক্ষেপকে এক ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ৩০ সেপ্টেম্বরের মাধ্যমে ইরাক থেকে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণ চেষ্টার অবসান ঘটবে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ জাসিম আল-বাহাদলি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ইরাকে ইরানের একক কর্তৃত্ব ভারসাম্যে রাখতে মার্কিন বাহিনী ভূমিকা রেখেছিল, যা এখন থেকে ইরানের অনুকূলে চলে যাবে।
তবে ইরাকের অভ্যন্তরে এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। ফালুজাহর সুন্নি উপজাতীয় নেতা আবদুর রহমান আল-জোবাইসহ স্থানীয় অনেকেই নিরাপত্তা শূন্যতার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক জোটের বিদায়ের পর তৈরি হওয়া পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে তৎকালীন শাসক সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইরাকে আগ্রাসন চালায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট। ২০১১ সালে তারা প্রাথমিক প্রত্যাহার সম্পন্ন করলেও, ২০১৪ সালে উগ্রবাদী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) দমন করতে পুনরায় সেনা মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে কুর্দি ও ইরাকি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, আন্তর্জাতিক মিত্রদের বিদায়ের সুযোগ নিয়ে আইএসের স্লিপার সেলগুলো পুনরায় সংগঠিত হয়ে আত্মঘাতী হামলা ও সহিংসতা বাড়াতে পারে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











