মার্কিন সেনা হত্যা বা বন্দিতে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিল ইরান

১৭ আগস্ট ২০২৬ - ১৭:২০
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
মার্কিন সেনা হত্যা বা বন্দিতে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিল ইরান
ছবি সংগৃহীত

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার চলমান বৈরী সম্পর্কের মাঝে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি ঘোষণা। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক সদস্যকে হত্যা বা বন্দি করতে পারলে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। দেশটির সেনাপ্রধান আমির হাতামি এই ঘোষণা দিয়েছেন। একই সাথে জানানো হয়েছে, কোনো নারী যদি এই প্রক্রিয়ায় সফল হন, তবে তাঁকে দ্বিগুণ অর্থ পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে।

​রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম আইআরএনএ-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেনাপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ নাগরিকদের ব্যাপক আগ্রহ ও অনুরোধ বিবেচনা করেই এই আর্থিক পুরস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যদের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা বা বন্দি করার কোনো সুনির্দিষ্ট স্থান, কৌশল কিংবা সময়সীমার কথা তিনি প্রকাশ্যে আনেননি।

​আমির হাতামি জানান, আক্রমণকারী মার্কিন সেনাকে হত্যা কিংবা বন্দি করে হস্তান্তর করলে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ৩০ হাজার ডলার অথবা ইরানের অভ্যন্তরীণ মুদ্রায় ৫ বিলিয়ন তোমান অর্থ দেওয়া হবে। সাহসী ইরানি নারীরা এই অভিযান পরিচালনা করলে সেই পুরস্কার দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

​মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি দ্রুত গুটিয়ে নেওয়ার দাবি তুলে সেনাপ্রধান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর কিংবা কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর প্রবেশের আর কোনো সুযোগ নেই।

​যদিও চলমান উত্তেজনার সময়ে ইরানের অভ্যন্তরে কোনো মার্কিন স্থলবাহিনীর উপস্থিতির প্রমান মেলেনি। শুধু এপ্রিল মাসের একটি ঘটনার সময় একটি বিধ্বস্ত এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের কর্মকর্তা উদ্ধারে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে প্রায় ২০০ সেনা অংশ নেন।

​উল্লেখযোগ্য যে, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত হামলার পর এই উত্তেজনার সূচনা ঘটে। পরবর্তীতে এপ্রিলে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং জুনে একটি খসড়া আলোচনার পথ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত সমাধান আসেনি। এই সংঘর্ষের পর থেকে ইরান ভূখণ্ডের বাইরে—বিশেষ করে জর্ডান ও ইরাকে—১৭ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন, যার সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে জুলাই মাসে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0